বিসিবির সংশোধিত গঠনতন্ত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে আপিল নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বিসিবি প্রয়োজন মনে করলে গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন করতে পারবে। তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমন রায় পেয়ে খুশি। জানালেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করবে বিসিবি।
আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান কমিটির চার বছরের মেয়াদ। আরেকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে গঠনতন্ত্র নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের জন্য। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি বিসিবির সংশোধিত গঠনতন্ত্রকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেন। পরে সংশোধিত গঠনতন্ত্রে আদালত নির্বাচনের পক্ষে মত দিলেও শর্ত বেঁধে দিয়েছিল। তাই চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা ছিল। বুধবার সেই রায়টিই পেয়েছে বিসিবি। পেয়েছে নিজেদের পক্ষে।
সন্তোষজনক রায়ের পর বিসিবি কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসেন নাজমুল হাসান, ‘পুরো রায় হাতে পাওয়ার আগে কিছু করতে পারবো না। রায় চলে এলেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। অবশ্যই নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করব। আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। রায়ের কপি পাওয়ার সাথেই এজিএম-ইজিএম’র তারিখ নির্ধারণ করে ফেলব। ৩০ জুলাই বোর্ড সভা ডেকেছি। দ্রুতই সব ফাইনাল করে ফেলব।’
আদালতের রায়কে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেছেন বোর্ড সভাপতি, ‘রায়ের কপি হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যতটুক শুনেছি, বুঝছি যে, এজিএম-ইজিএম ডেকে গঠনতন্ত্রে যদি কোনও পরিবর্তন করতে হয় আমরা করতে পারব। এটা অবশ্যই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ভালো একটা রায়। এটা একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি ক্রিকেটের জন্য ভালো হয়েছে।’
বিসিবির সংশোধিত গঠনতন্ত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দেয়ার পর গত ২৮ জানুয়ারি রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করে এনএসসি ও বিসিবি। ওই দিনই বিসিবির সংশোধিত গঠনতন্ত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। পরে বিভিন্ন সময়ে এ স্থগিতাদেশের সময় বাড়ানো হয়।
তার আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে গঠনতন্ত্রে সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন বিসিবির সাবেক পরিচালক মোবাশ্বের হোসেন এবং বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু।
রিট আবেদনে বলা হয়, বিসিবির বিশেষ সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের মতামত নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছে গঠনতন্ত্র পাঠানো হয়েছিল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠনতন্ত্র যাচাই-বাছাই করে সংশোধন করে বিসিবিতে ফেরত পাঠায়। পরে বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এনএসসি। বিষয়টি নিয়ে রিট করা হয়। সেই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর আদালত রুল জারি করেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষেই বুধবার আদালত সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ বুধবার সকালে এই আদেশ দেন। আদালতে বিসিবির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
রায় শোনানোর আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আদালতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেছেন। এ ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘উনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। আশা করেছেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ অনেক অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তার এমন ভাবনা তো আমাদের জন্য বিরাট ব্যাপার।’







