রোহিঙ্গা সংকটের মূল হোতা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জেনারেলদের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন থেকেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা চলে আসছিল। এবার বর্মী জেনারেলদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের দরোজা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া সকল আমন্ত্রণ বাতিল করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এছাড়া তাদেরকে দেওয়া সকল সামরিক সহযোগিতা স্থগিত করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ রোহিঙ্গা সংকটে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখা দিয়েছে। এর ফলে যাচ্ছেতাই করার ক্ষেত্রে বর্মী জেনারেলদের মনে কিছুটা হলেও প্রশ্ন দেখা দেবে বলে আমরা মনে করি। তবে তারা এরপরেও যদি রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ করে তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত না নেয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণ করে অন্যান্য দেশকে আরও কঠোরতার দিকে হাঁটতে হবে। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একই ধরণের চিন্তাভাবনাকে আমরা স্বাগত জানাই। ইউনিসেফ বলছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের প্রায় ৬০ শতাংশই শিশু। এই মানবিক সংকটে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অর্থ সংকটে ভুগছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মানবেতর জীবনযাপন করা রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। তবে আমরা এখনও বিশ্বাস করতে চাই যে, অচিরেই মিয়ানমারের জেনারেলদের এ বিষয়ে বোধোদয় ঘটবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে মিয়ানমারে সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে মিয়ানমার এই সংকট উত্তরণে ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশা করি। জাতিসংঘে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবনা মেনে মিয়ানমারকে শীঘ্রই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র মূলত: শেখ হাসিনার সমাধানসূত্রকে প্রতিধ্বনিত করেছে।







