অভিনয়ের প্রবল বাসনা থেকেই মঞ্চে কাজ করা,মঞ্চ থেকে টেলিভিশন এবং পরে চলচ্চিত্রে আগমন তার। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের গেরিলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সকলের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন। গেরিলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ খল চরিত্রে অভিনেতা ক্যাটেগরিতে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার।তিনি শতাব্দী ওয়াদুদ। চ্যানেল আই অনলাইনে মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন তার বর্তমান ব্যস্ততাসহ থিয়েটার নিয়ে বিভিন্ন কথা।
চ্যানেল আই অনলাইন:নাটক নিয়ে ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন?
শতাব্দী ওয়াদুদ: সম্প্রতি ব্যস্ত রয়েছি কোরবানী ঈদের বেশ কয়েকটি নাটক নিয়ে।আর সিরিয়াল অনন্যা, নন্দিনী করছি।এছাড়া রেডিও নাটক, বিজ্ঞাপনের ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে নিয়মিতভাবেই ব্যস্ত রয়েছি।
চ্যানেল আই অনলাইন: গেরিলা চলচ্চিত্রে দূর্দান্ত অভিনয়ের পর আপনার পরবর্তী চলচ্চিত্র সর্ম্পকে জানতে চাই
শতাব্দী ওয়াদুদ: ইতোমধ্যে শেষ করেছি দুটি চলচ্চিত্রের কাজ।ইমপ্রেস টেলিফিল্মের তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’ চলচ্চিত্রে।এখানে আমাকে একজন পজেটিভ পুলিশ অভিনেতা হিসেবে দেখা যাবে।অপরটি রিয়াজুল রিজু পরিচালিত ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’। এখানে আমি একজন বায়োস্কোপওয়ালার চরিত্রে অভিনয় করেছি।আর হাতে রয়েছে পি এ কাজল পরিচালিত বানিজ্যিক চলচ্চিত্র ‘চোখের দেখা’। এখানে মূল খল নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছি।
চ্যানেল আই অনলাইন: খল নায়কের চরিত্রে কি অভিনয় করতে সাছ্বন্দ বোধ করেন?
শতাব্দী ওয়াদুদ: হ্যাঁ, এটা পছন্দ করি।তবে একজন অভিনেতা হিসেবে স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পরই আমি চরিত্র খুঁজতে পছন্দ করি।আর খল চরিত্রে অভিনয় করলে নিজের অবস্থান আবিষ্কার করা যায়, নিজেকে এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। আর তা ছাড়া খল চরিত্রে অভিনয় করলে কম সময় লাগে।ব্যস্ততার মধ্যে কারোই সময় নষ্ট করা উচিত নয়।
চ্যানেল আই অনলাইন: খল চরিত্রে কোন অভিনেতার অভিনয় আপনার সব চাইতে ভালো লাগে?
শতাব্দী ওয়াদুদ: খল চরিত্রে নয় অভিনেতা হিসেবে আমি দেশে গোলাম মোস্তফা, হুমায়ূন ফরিদীর অভিনয়ের ভক্ত। তাছাড়া আমি হলিউডে আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার, জিম ক্যারির ভক্ত।আমি কাউকে অনুকরণ বা অনুসরণ করি না।তবে আমি অনেকের দ্বারা প্রভাবিত। চ্যানেল আই অনলাইন: মঞ্চে নতুন কিছু করছেন কি?
শতাব্দী ওয়াদুদ: না,ব্যস্ততার কারণে মঞ্চে নতুন কিছু করছি না, তবে প্রাচ্যনাটে আমি শুরু থেকে মঞ্চে যে নাটকগুলোতে অভিনয় করেছি ওগুলোতেই এখন অভিনয় করছি।
চ্যানেল আই অনলাইন: মঞ্চে আপনার বেড়ে ওঠা সর্ম্পকে জানতে চাই
শতাব্দী ওয়াদুদ: আসলে ছোটবেলা থেকেই পরিবারের প্রচ্ছন্ন একটা সার্পোট পেয়েছি। অষ্টম-নবম শ্রেণীতে থাকাকালীন রাত আটটা নয়টা পর্যন্ত মঞ্চে চর্চা করেছি, তবে পড়ালেখার ক্ষতি না করে।আমার চাচা শহীদুল আলম সাচ্চুর কাছ থেকেই অভিনয়ের বড় প্রেরণা পেয়েছি।অভিনয়ের জন্য নিয়মিত চর্চা করেছি, একজন দক্ষ অভিনেতা হতে প্রয়োজন নিয়মিত চর্চা। আর সেই চর্চা করতে হবে মঞ্চে।মঞ্চই একজন পেশাদার অভিনেতার আসল ক্ষেত্র।
চ্যানেল আই অনলাইন: একজন অভিনেতা হওয়ার পেছনে মঞ্চের ভূমিকা কি?
শতাব্দী ওয়াদুদ: আমি মঞ্চের মানুষ, আমি বলব কেউ মঞ্চে সঠিক দিক নির্দেশনায় অভিনয় করলে শতকরা ৮০ শতাংশ অভিনেতা তাকে মঞ্চ বানিয়ে দেয়।
চ্যানেল আই অনলাইন: নতুনদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?
শতাব্দী ওয়াদুদ: সময় এবং স্থান অভিনয়ের ক্ষেত্রে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের নতুন প্রজন্মের তারকাদের মাথায় এটা থাকে না, ওরা বেশী ক্যাজুয়্যাল।ওদের অভিনয় সব নাটকেই এক রকম।অভিনয়ের ব্যাপার টা কিন্তু তা না, স্ক্রিপ্ট ও চরিত্র অনুযায়ী কাজ করতে হয়, শুধু নিজে নয় সহকর্মী ও বাকী সবাই মিলেই অভিনয় করতে হয়।
চ্যানেল আই অনলাইন: আপনার পরিবার সর্ম্পকে বলুন
শতাব্দী ওয়াদুদ: আমার বাবা মা রয়েছেন।আমরা তিনভাই, বাকী দুইভাই অদিতি ও সমাপ্তি ও মিডিয়াতে।তবে অদিতি পরিচালনার দিকে বেশী আগ্রহী।আমি বিবাহিত। চার বছরের একটা ছেলে আছে, গত সপ্তাহ থেকে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। আমার স্ত্রী একটা ইংরেজী স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এছাড়া ও ছোটবেলা থেকেই নৃত্যের সঙ্গে জড়িত। নিজের স্ত্রী বলে বলছি না, বাংলাদেশে কত্থক নৃত্যে সেরা চারের মধ্যে ও একজন বলে আমি বিশ্বাস করি। আমাদের প্রাচ্যনাট্যেও সে এখন কাজ করছে।
চ্যানেল অাই অনলাইন: চ্যানেল আই অনলাইনকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
শতাব্দী ওয়াদুদ: চ্যানেল আই অনলাইনকেও ধন্যবাদ।






