বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার হরতাল ডেকেছিলো বামপন্থী দলগুলো। ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ছিলো হরতালের ব্যাপ্তি। আগেরদিন এই হরতালে সমর্থন জানায় বিএনপির মতো বড় রাজনীতিক দলও।
দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বুধবার হরতালে সমর্থনের কথা জানালেও এই কর্মসূচিতে বিএনপির কোনো অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।
ভোর ৬টায় বামপন্থী কয়েকটি দলের শাহবাগে খণ্ড খণ্ড অবস্থান ও স্লোগান, এরপর কাঁটাবন এবং সেখান থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব ও পল্টনের দিকে কয়েকটি স্লোগান বাদ দিলে হরতাল বলতে কিছু ছিলোই না। শাহবাগে হরতালের সমর্থনে ছোট্ট মিছিলে সেভাবে বাধা দেয়ার চেষ্টাও করেনি পুলিশ।
সকাল থেকে রাজধানীজুড়ে স্বাভাবিক নিয়মে খুলেছে অফিস, আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। রাজধানীতে যান চলাচলও ছিলো অন্যান্য দিনের মতোই। অন্য সময়ের মতো হরতাল মানে যে আগুন, জ্বালাও পোড়াও তার লেশ মাত্র ছিলো না। হরতালের সমর্থনে পিকেটিংও চোখে পড়েনি।
সকাল থেকে রাজধানীজুড়ে বিশাল যানজট বুঝিয়ে দিলো, এখন আর হরতালের গুরত্ব নেই মানুষের জীবনযাত্রায়।
তবে ভোরে হরতালের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড় থেকে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ের দিকে আসে। হরতাল সমর্থকরা জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেয়। তখন শাহবাগের মোড়ের এক পাশে পুলিশের তিনটি সাঁজোয়া যান রাখা ছিলো।
বেলা গড়াতে গড়াতে তা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে শাহবাগ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে নিয়মিত পুলিশ এখনো আগের মতোই অবস্থান করছেন।
ভোরের দিকে একবার পুলিশ ওই এলাকায় সাঁজোয়া যান থেকে বিকট শব্দ সৃষ্টি করে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয় বলে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন।
একজন নেতার অভিযোগ, শাহবাগ এলাকায় না হলেও বিভিন্ন জায়গায় হরতাল সমর্থকদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
শাহবাগ পুলিশ বলছে, এখানে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। কাউকে বাধা দেয়া হয়নি। এখনো রাজধানীর শাহবাগ, পল্টন, ফার্মগেট, বাংলামোটর, কাটাবন সহ বিভিন্ন জায়গায় বিশাল যানজট লেগে আছে।
একরাম হোসেন নামে একজন পথচারি জানান, হরতালে গাড়ি কম হবে মনে করে বাসা থেকে বের হলাম, এখন তো আরো উল্টো অবস্থা। বিশাল জ্যামে বসে আছি প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মকসুদুল করিম বলেন, এখন মানুষ হরতালকে পাত্তা দেয় না। জীবনচলার পথে এখন প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে হরতাল গৌন ব্যাপার।







