ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় শিক্ষকসহ দুই জনের মৃত্যুর ঘটনায় ১৪৪ ধারা অব্যাহত রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজ সরকারী করার দাবিতে আন্দোলনের সময় নিহত হন কলেজ শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও পথচারী সফর আলী। দুই দিন আগের এই ঘটনার পর থেকে ১৪৪ জারি রয়েছে ফুলবাড়িয়ায়। চলছে র্যাব-পুলিশের টহল। পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যে নির্দয়ভাবে শিক্ষকদেরকে মারধর করছে এটা অবর্ণনীয়। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমরা এর তীব্র নিন্দা করি এবং যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিচার প্রত্যাশা করি।
কৃষকলীগ নেতা লিটন মিয়া বলেন, শিক্ষক-ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা হয়েছে। পুলিশ ক্যাম্পাসের ভিতর ঢুকে হামলা করেছে। পরবর্তী সময়ে চার-পাঁচশো জনকে আসামী করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। রাতে পুলিশ-র্যাব ফোর্স দিয়ে ভীতি সঞ্চার করছে। এই অবস্থাতে সকল ছাত্ররা বাড়িঘর ছাড়া। তাদের পড়ালেখায় ক্ষতি হচ্ছে। তারা পরীক্ষা দিতে পারছে না।
ফুলবাড়িয়া ডিগী কলেজ শিক্ষক মাসরুফা সুলতানা বলেন, আমরা কলেজ যেতে পারছি না। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রাখছে। ১৪৪ ধারা জারি করে রাখছে। যারাই কলেজ যেতে চাচ্ছে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষা চলতেছে। তারা পরীক্ষা দিতে পারতেছে না।
কলেজ সরকারীকরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে জানিয়ে মাসরুফা বলেন, আমাদের দাবি অযৌক্তিক না। আমরা আন্দোলন থামাবো না। আমাদের উপর যদি আরও লাঠিচার্জ করে, আমাদের যদি মেরেও ফেলে, আমাদের একজন টিচারও থাকলে আন্দোলন চলবে, সরকারীকরণ না হওয়া পর্যন্ত।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের দাবি, কলেজটিকে সরকারী করার পাশাপাশি ওই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি।








