নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো দেখানো হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত ২১ জনের মধ্যে ৫ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
যারা বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছেন, নিহত স্বজনদের মরদেহগুলো সনাক্ত এবং ক্রস ম্যাচিংয়ের জন্য ইন্টারপোলের ডিজাস্টার ভিক্টিম ইনফরমেশন (ডিভিআই) ফর্মে নির্ধারিত কিছু তথ্য দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় যে তথ্যগুলো দিতে হবে তার মধ্যে রয়েছে, স্বজনের সঙ্গে ভিক্টিমের বায়োলজিক্যাল সম্পর্ক, ভিক্টিমের ডাকনাম, পারিবারিক নাম, জাতীয়তা, জন্মস্থান, বৈবাহিক অবস্থা, পেশা, বর্তমান ঠিকানা, ধর্ম, চোখ, নাক, কান, মুখমণ্ডল, ঠোঁট, ঘাড়, পায়ের পাতা, নখ, উচ্চতা, ওজন, মাথার চুল, চশমা বা কনটাক্ট লেন্স ব্যবহার করে কিনা, কী ধরনের গহনা পরিহিত ছিল, পরিহিত কাপড়ের বর্ণনা, পায়ের জুতা প্রভৃতি।
এরই মধ্যে হতাহতদের স্বজনদের নিয়ে নেপাল পৌঁছেছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিশেষ ফ্রি ফ্লাইটটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পৌঁছায়।
ওই ফ্লাইটে ইউএস বাংলার ৭ জন কর্মকর্তা ও ৪৬ জন স্বজন রয়েছেন। হতাহতদের কারও একজন, কারও দু’জন স্বজনকে নিয়ে এই ফ্লাইটটি মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে রওয়ানা করে।
সোমবার ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময়েই দুর্ঘটনার শিকার হয়।
উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫০। চিকিৎসাধীন যাত্রীদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উড়োজাহাজটিতে থাকা ৬৭ যাত্রীর মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, একজন মালদ্বীপের এবং একজন চীনের নাগরিক। উড়োজাহাজটিতে ৬৭ যাত্রীর পাশাপাশি ৪ জন ক্রু ছিলেন বলে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
দুর্ঘটনায় প্রথমেই মৃত্যু হয় ওই ফ্লাইটের সহকারি পাইলট এবং ইউএস বাংলার প্রথম নারী পাইলট প্রিথুলা রশিদের। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদকে। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যাপ্টেন আবিদও মারা যান।







