‘আসলে ব্লগার-ঘাতক বলে কিছু হয় না। শেখ মুজিব থেকে আজকের ব্লগার হত্যা-গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ওপর আঘাত হানার চেষ্টা বলেই মনে করছে দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব।’
কলকাতার জনপ্রিয় পত্রিকা ‘আনন্দবাজার’ এ আজ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জয়ন্ত ঘোষাল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং সাম্প্রতিক সময়ে নাস্তিক অ্যাখ্যা দিয়ে ব্লগারদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘাতকদের একই অপশক্তির ধারক বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি লিখেছেন, শেখ হাসিনা সংবিধান সংশোধন করে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রচরিত্র ফিরিয়ে এনেছেন ঠিকই। কিন্তু মৌলবাদী ঘাতকবাহিনী গোপনে আজও সক্রিয়। তারা আজও চাইছে এই প্রগতিশীল শক্তিকে পরাস্ত করে উন্নয়নের রাস্তায় কাঁটা ছড়াতে।
বাংলাদেশে আবারো জামাতের জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠতে চাইছে বলে মন্তব্য করা হয়। এছাড়াও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘‘এই অপশক্তির তৎপরতা সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল। একদিকে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ করার বিষয়ে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে। আবার একের পর এক মুক্তমনা ব্লগারকে হত্যা করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। সন্ত্রাসের এই শক্তিকে আমাদের সমবেত ভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’’
ভারতের স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যা একই দিনে সংঘটিত হয়েছিলো। একই দিনে বাংলাদেশ ও ভারত দেশের একটির গৌরব ও আরেকটির জঘন্যতম অধ্যায় রচিত হওয়ার বিষয়টিতে প্রতিশোধস্পৃহা ছিলো বলে বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রাক্তন ভারতীয় হাইকমিশনার রজিত মিটারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
রজিত বলেন, ‘‘বাংলাদেশে স্বাধীনতার লড়াইয়ে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধী এই রাষ্ট্র গঠনকে সমর্থন করেছিলেন। সম্ভবত সেই কারণেই মৌলবাদী শক্তি ১৫ অগস্টকে এই হত্যার দিন হিসাবে বেছে নেয়। এর মধ্যে একটি বদলার মানসিকতা লুকিয়ে ছিল।’’
প্রতিবেদনে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মুয়াজ্জম আলির বক্তব্যকে তুলে ধরেন জয়ন্ত।
মুয়াজ্জম আলি বলছিলেন, ‘‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের ওই সময়টায় ওয়াশিংটনে অবিভক্ত পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত ছিলাম আমি। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে এক যোগে আমরা বহু কূটনীতিক ইস্তফা দিয়েছিলাম। তার কারণ আমরা এক স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য সেই লড়াই আজও থামেনি।’’
ছিটমহলের কালো দাগ মুছে শেখ মুজিবের স্বপ্ন সফল হয়েছে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনটিতে। ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গী করে ঢাকা গিয়ে স্থলসীমান্ত চুক্তি করে দীর্ঘকালের একটি অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন।’






