নেত্রকোণা সদরের পলাশকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলের ৩৫ শতাংশ জমির ১৬ শতাংশই স্কুলের নামে দান করেছে মফিজউদ্দিন তালুকদার। এলাকায় সবাই তাকে ‘মোড়ল’ নামেই চেনে।
এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছেন জেলার এই প্রবীন। তবে শিক্ষকদের লাগাতার খামখেয়ালীপনায় দিনদিন কমছে স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা। ওই বৃদ্ধ বলেছেন, স্কুলটির কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না তাঁর এলাকাও। গত বছর নিজের আক্ষেপের কথা বলেছিলেন মোড়ল। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি করতে আমার খুব কষ্ট হয়েছে। এখন যারা কাজ করছে তারাই সবকিছু মন চাইলে আসে আবার মন না চাইলে আসেনা। ওরা কি বেতন পায়না? এখন সরকারী বেতন পায়। এই অবস্থা দেখে আমার হৃদয় ভেঙ্গে যায়।
এক বছর কি অবস্থায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত পলাশকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের? একশ’ পাঁচ বছরের এই বৃদ্ধ বলেন এখনো কষ্ট আছে তাঁর। মোড়ল বলেন, আপনারা আসার পর খুব ভালভবে স্কুল চলছে কিন্ত এই কয়েকদিন যাবৎ আবার কাজের মনোযোগ কমে গেছে।
তিনি আরো বলেন, এখন তারা আসে দেরী করে; ফলে ছাত্ররা আসার পর আবার ফিরে যায় অনেকেই আবার আসেই না। শিক্ষরা দেরি করে আসলে আর ছাত্ররা কি করবে? তাদের তো আর বেঁধে রাখা যাবেনা।
নিজের কোনো সন্তান নেই মোড়লের। তবে প্রতি বছরই নতুন নতুন শিশুকে আশ্রয় দেন মোড়ল। ওই শিশুরা যখন লেখাপড়া শেষ করে তখন আবারো নেন নতুন দায়িত্ব। মোড়ল বলেন, শুধু স্কুলের ক্ষেত্রেই ব্যর্থ তিনি।







