অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’ এবার শুরু করছে তাদের নিজস্ব ‘মোবাইল ওয়ালেট’ সেবা। এর ফলে ‘পাঠাও’ ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই তাদের লেনদেন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন ইলিয়াস জানান, এতে রাইড ব্যবহার করে নগদ অর্থের বদলে তারা ঝামেলাহীনভাবে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবে।
গত সপ্তাহে সিএনবিসি নিউজের স্ট্রিট সাইন অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
হুসাইন ইলিয়াস বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পেমেন্ট বা মূল্য পরিশোধ একটি বড় সমস্যা। এখনো এদেশে অধিকাংশ পেমেন্ট নগদ অর্থ দিয়ে হয়। ক্যাশলেস অর্থনীতি এখনো সেভাবে চালু করা যায় নি। তাই আমরা আগামী বছর থেকেই ইলেক্ট্রনিক-ট্রানজিকশনের সুবিধা চালু করতে যাচ্ছি ভেবে খুব আনন্দিত’। আমাদের নিজস্ব মোবাইল ওয়ালেট থাকবে।
‘পাঠাও অ্যাপের সঙ্গে এই ওয়ালেট সেবা যুক্ত থাকবে। গ্রাহকরা পাঠাও পেমেন্টের ক্ষেত্রে এই ওয়ালেট ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি গ্রাহকরা তাদের ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক একাউন্ট এই ওয়ালেটে টপআপ করতে পারবেন।’
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার অবকাঠামো গতি এখনো বেশ দুর্বল। যার ফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলের বৈষম্য এখনও কাটানো যাচ্ছে না। যদিও দেশের সাড়ে ষোল কোটি মানুষের ৭০ ভাগই গ্রামে বাস করে। কিন্তু তাদের জন্য কোন বেসিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা যায় নি।
‘এছাড়া রেগুলেশন পরিবর্তন করে নতুন পেমেন্ট পদ্ধতিগুলো খাপ খাওয়াতে বেশ সময় লাগছে- এটাও ধীর অর্থনীতির একটা কারণ। সরকার তাই নগদ মূল্যে লেনদেনের বদলে মোবাইল ব্যাংকিং খাতকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।’
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পরিবহণ সমস্যাকে একটি বড় বাধা উল্লেখ করে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুসারে ট্রাফিক জ্যামের কারণে ঢাকা শহরের মানুষদের প্রতিদিন ৩২ লক্ষ ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। যার ফলে প্রতি বছর ৪.৬ বিলিয়ন ডলারের আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের এ শহরে গণপরিবহন ব্যবস্থা খুবই অপর্যাপ্ত।
দেশের প্রথম রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে পাঠাও খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।







