ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর কংগ্রেস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির অন্যতম নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তার সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার ১৯ জন বিধায়ক। এতে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের সরকার পতনের মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় সিন্ধিয়া নিজের পদত্যাগের চিঠি শেয়ার করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘দলবিরোধী’ কাজের অভিযোগে জ্যোতিরাদিত্যকে বহিষ্কার করে কংগ্রেস।
দলটির সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কংগ্রেস সভানেত্রী দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন।”
নিজের পদত্যাগপত্রে জ্যোতিরাদিত্য লিখেছেন, ‘বরাবরই আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল আমার রাজ্য ও দেশের জনগণের সেবা করা, কিন্তু আমি মনে করছি এই দলের মধ্যে সেই কাজ আর আমি করতে পারছি ন।’
তার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের ঘটনায় জ্যোতিরাদিত্যের বিজিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন আরও প্রবল হয়।
কেউ কেউ বলছেন, আজই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তিনি। এমনকি বিজেপির হয়ে রাজ্যসভার প্রার্থীও হতে পারেন জ্যোতিরাদিত্য।
আগের দিন সোমবার কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিং জানান, তারা বহু চেষ্টা করেও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
তিনি জানান, ‘আমরা সিন্ধিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে চলেছি কিন্তু বলা হচ্ছে তিনি সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত। তাই কথা বলতে পারবেন না।’
অভিযোগ ওঠে, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া তার ঘনিষ্ঠ ৬ জন মন্ত্রীসহ মোট ১৭ জন কংগ্রেস বিধায়ককে বিজেপি শাসিত রাজ্য কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে গেছেন।
এমন ঘটনার পর সোমবার রাতেই মধ্যপ্রদেশে কমলনাথ মন্ত্রিসভার সব সদস্য পদত্যাগ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ তা স্বীকার করে সংবাদিকদের বলেন, ‘সেই সমস্ত শক্তিকে আমি জয়ী হতে দেব না, যারা মাফিয়াদের সাহায্য অস্থিরতা তৈরি করছে। আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হল বিশ্বাস এবং মধ্যপ্রদেশের মানুষের ভালবাসা। সেই সমস্ত শক্তিকে আমি জয়ী হতে দেব না, যারা সেই সরকারে অস্থিরতা তৈরি করছে, যে সরকার মধ্যপ্রদেশের মানুষের তৈরি।’
মধ্যপ্রদেশের ২৩০ সদস্যের বিধানসভায় কংগ্রেস নেতা কমলনাথ নিজেদের ১১৪ জনসহ ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েন। রাজ্য বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্যে প্রয়োজন ছিল ১১৬ জন সাংসদের সমর্থন। বিএসপির ২ জন, সমাজবাদী পার্টির ১ জন এবং ৪ জন নির্দল বিধায়ক নিয়ে গত প্রায় এক বছর সরকার চালাচ্ছেন কমল নাথ।
কিন্তু ১০৭ জন বিধায়ক নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপি বেশ কিছু ধরেই সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ উঠে। এখন যে পরিস্থিতি তাতে মধ্যপ্রদেশে দলটির সরকার গঠন সময়ের ব্যাপার মাত্র।







