নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন ও এর প্রতিবাদে আন্দোলন বিষয়ে মেয়ে সানার একাধিক ‘রাজনৈতিক’ পোস্ট এবং তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোড়নের মুখে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে হলো সৌরভ গাঙ্গুলিকে।
ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)’র এই প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি সামলাতে সামাজিক মাধ্যমে এসে বললেন, ‘ওকে জড়াবেন না। সে এখনও অনেক ছোট।’
এনডিটিভি জানায়, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে বুধবার দুপুরে ইনস্টাগ্রামে সানা গাঙ্গুলির পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলে দেয়। পরে অবশ্য তা সরিয়ে ফেলা হয়।
কিন্তু ততক্ষণে যে তা আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি সাবেক এই ক্রিকেট অধিনায়কের। তাই মেয়েকে এসব রাজনৈতিক আলোচনা থেকে দূরে রাখতে সামাজিক মাধ্যমেরই আশ্রয় নিয়েছেন সৌরভ। এক টুইটবার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘দয়া করে এসব বিষয় থেকে সানাকে দূরে রাখুন… এই পোস্টটি সত্যি নয়… রাজনীতির কোনো কিছু সম্পর্কে জানার জন্য ও এখনো খুবই ছোট।’
Please keep Sana out of all this issues .. this post is not true .. she is too young a girl to know about anything in politics
— Sourav Ganguly (@SGanguly99) December 18, 2019
অবশ্য যে পোস্ট নিয়ে এত আলোচনা, সেখানে নিজস্ব কোনো মন্তব্য লেখেননি অষ্টাদশী সানা। বরং খুশবন্ত সিংহের একটি লেখা উদ্ধৃত করেন তিনি। বর্তমান বিক্ষোভ-সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সৌরভ-কন্যার সেই পোস্ট অনেকটা খাপেখাপ মিলে গেছে। আর সে কারণেই রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে সেটি।
সানা বুধবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরি হিসেবে ২০০৩ সালে প্রকাশিত খুশবন্ত সিংহের ‘দ্য এন্ড অব ইন্ডিয়া’ বই থেকে ছোট একটি অংশ তুলে ধরেছেন।
লেখাটি এমন: ‘প্রতিটি ফ্যাসিবাদী সরকারের এমন একটা দল বা গোষ্ঠীর প্রয়োজন হয়, নিজেদের বেড়ে ওঠার জন্য যাদেরকে তারা শয়তান হিসেবে গণ্য করতে পারে। এর শুরু হয় দু’একটা দল দিয়ে। কিন্তু সেটি কখনোই সেখানে শেষ হয় না। ঘৃণার ওপর নির্ভর করে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলন নিজেকে ধরে রাখতে পারে কেবল অবিরাম একটা ভয় বা দ্বন্দ্বের আবহ তৈরি করার মাধ্যমে।…’
BCCI President @SGanguly99‘s daughter Sana Ganguly just won my heart by this post. Incredible maturity from an 18 year old. pic.twitter.com/wQN5eyfY6G
— Aparna (@chhuti_is) December 17, 2019
খুশবন্তের লেখার আরও কিছু অংশ একই সঙ্গে পোস্ট করেছেন সানা। সেখানে লেখা আছে, ‘আজ যারা আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছি কারণ আমরা মুসলিম বা খ্রিস্টান নই, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছি। এই সঙ্ঘ ইতোমধ্যেই বামপন্থী ইতিহাসবিদ এবং ‘পশ্চিমা ভাবধারার’ তরুণ সমাজকে টার্গেট করেছে। কাল তাদের বিদ্বেষ গিয়ে পড়বে স্কার্ট পরা নারী, যারা মাংস খান, মদ্যপান করেন, বিদেশি চলচ্চিত্র দেখেন, প্রতি বছর তীর্থে যান না, দাঁতনের পরিবর্তে টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, বৈদ্যের বদলে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পছন্দ করেন, দেখা হলে ‘জয় শ্রী রাম’ বলে হাঁক দেয়ার বদলে হাত মেলান বা চুম্বন করেন, তাদের ওপর। কেউ নিরাপদ নয়। ভারতকে বাঁচাতে হলে এগুলো আমাদেরকে উপলব্ধি করতে হবে।’
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সানা এই উদ্ধৃতির মাধ্যমে আসলে বিজেপি এবং এর সঙ্ঘগুলোকেই বোঝাতে চেয়েছেন।
এখানেই থামেননি সানা। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ ধরে দেশের কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিক্ষোভ-প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠছে তার একটি মানচিত্রও পোস্ট করেন তিনি।
ইন্টারনেট জগতে সানার এই পোস্টগুলো ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। অনেকের কাছে প্রশংসিতও হচ্ছে। কেননা তাদের মতে, সানা খুশবন্তের লেখার মাধ্যমে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলে ধরেছেন।
অবশ্য কেউ কেউ আবার বলছেন, রাজনীতি বোঝার জন্য সানার বয়স খুব কম। তবে সেখানে আবার আরেক পক্ষ মনে করিয়ে দিচ্ছে, ভারতে ভোট দেয়ার বয়স ১৮।








