কক্সবাজার থেকে: চার মাস আগেই মেয়েরা জিতে এসেছে এশিয়া কাপ। ছেলেরা যা এখনও পারেনি, সেটাই করে দেখিয়েছেন সালমা-রুমানারা। আগামী মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে টিম টাইগ্রেস। তার আগে একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ পাওয়া ছিল পরম আরাধ্য। বিসিবির ওমেন্স উইং উড়িয়ে এনেছে পাকিস্তান দলকে। কিন্তু এমন একটি মাঠে সিরিজের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ গড়ানোই অসম্ভব!
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের ম্যাচগুলো হচ্ছে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে। অথচ পাশেই ফাঁকা পড়ে ছিল মূল মাঠ। জাতীয় ক্রিকেট লিগের(এনসিএল) ভেন্যু করায় ‘মন্দের ভালো’ মাঠটিকেও পায়নি মেয়েরা।
যেকোনো ম্যাচ বা সিরিজের ভেন্যু নির্ধারণ করে থাকে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটি। যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচই হয় না, সেখানে কেনো আন্তর্জাতিক সিরিজের আয়োজন? এমন আহাজারি শোনা যাচ্ছে স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে গেটের দর্শকসারি পর্যন্ত। শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচ দেখতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়লেন বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

‘আসলে এ স্টেডিয়াম একেবারেই আন্তর্জাতিক নয় তা বলা যাবে না। তবে আমাদের আরও ভালো মাঠ রয়েছে। সেখানেই চাইলে করা যেত। কিন্তু আপনারা জানেন জাতীয় লিগ, যুব এশিয়া কাপে জন্য মাঠগুলো আগে থেকেই বরাদ্দ ছিল। তাই সম্ভব হয়নি। তবে আগামীতে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা হবে।’
এক রাতের বৃষ্টিতে পরেরদিন দুপুরের ম্যাচ (প্রথম টি-টুয়েন্টি) পরিত্যক্ত হয়েছে। দুদিন পরও শুকায়নি মাঠ। ভারী মাঠেই কার্টেল ওভারে (১৪ ওভার) দ্বিতীয় ম্যাচ খেলেছে দুদল। শুক্রবার তৃতীয় ম্যাচেও দেখা গেছে আউটফিল্ড ভারী। বল সীমানার কাছে গিয়ে হঠাৎ থেমে যাচ্ছিল।
নেই স্বয়ংক্রিয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মাঠ শুকানোর কোনো সরঞ্জামও। নেই ইনডোর সুবিধা, উন্নতমানের ড্রেসিংরুম। ম্যাচ অফিসিয়াল, স্কোরারদের কক্ষ যেন খুপড়িঘর। অনুশীলনের নেট ছেড়া। পেছনের অংশ দিয়ে বেরিয়ে দামি বলগুলো ভিজছে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে। এসব চিত্রই যেন মেয়েদের ক্রিকেট ঘিরে অবহেলার সত্যায়ন। চাইলে কী আরও ভালো মাঠ দেয়া যেত না?

মেয়েদের ক্রিকেট বিভাগের চেয়ারম্যান নাদেলের অনুরোধ টাইগ্রেস ক্রিকেটকে গুরুত্বের চোখে দেখার এবং সদয় হওয়ার, ‘আসলে খেলা পরিচালিত হয় বিসিবির অনেকগুলো বিভাগের সমন্বয়ে। যেমন- গ্রাউন্ডস কমিটি মাঠ দেবেন, ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ প্রয়োজনীয় সুবিধাদি নিশ্চিত করবেন। ফিন্যান্স বিভাগ টাকা দেবেন, মার্কেটিং বিভাগ স্পন্সর আনবেন। আমি যদি নারী বিভাগের উন্নতি করতে চাই তাহলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পাচ্ছি না তা নয়। তবে আমি সবার কাছে অনুরোধ করবো যেন তারা নারী ক্রিকেটের প্রতি সদয় হন এবং আরেকটু গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তাহলে আমরা আরও উন্নতি করতে পারবো।’








