গত মৌসুমের জন্য উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলারের লড়াই ছিল বার্সেলোনার লিওনেল মেসি, জুভেন্টাসের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিভারপুলের ভার্জিল ফন জিকের মধ্যে। দুই মহাতারকাকে টপকে বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছেন শিরোপাজয়ী অলরেড ডিফেন্ডার ফন জিক। সেরা ডিফেন্ডারও হয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মোনাকোতে হয়ে গেল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আসন্ন মৌসুমের ড্র। সেখানেই মেসি-রোনালদোকে টপকে ফন জিকের হাতে উঠেছে সেরার পুরস্কার। এক যুগেরও বেশি সময় পর কোনো ডিফেন্ডারের হাতে উঠল বর্ষসেরার খেতাব।
মেয়েদের বর্ষসেরার জন্য তিনজনের তালিকায় জায়গা পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের লুসি ব্রোঞ্চে, তার দুই লিওন সতীর্থ এডা হের্জেবার্গ ও অ্যামান্ডিন হেনরি। বর্ষসেরার খেতাব উঠেছে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার লুসি ব্রোঞ্চের হাতে।
তিনবার উয়েফা বর্ষসেরা হওয়া রোনালদো ২০১১তে পুরস্কার চালুর পর থেকে টানা সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। মেসি দুবার ইউরোপ সেরার এ খেতাব জিতেছেন। সেখানে গত মৌসুমে লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টাইটেল জেতাতে বড় ভূমিকা রাখা ডাচ ডিফেন্ডার ফন জিক প্রথমবার ছোট্ট তালিকায় জায়গা পেয়েই করলেন বাজিতাম।
পুরো মৌসুমজুড়ে নিজেদের রক্ষণকে দুর্গ বানিয়ে রাখার পুরস্কার পেলেন ফন জিক। গত মৌসুমের জন্য ডিফেন্ডার হিসেবে প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন আগেই। সবমিলিয়ে অসাধারণ একটা মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি। দেড় বছর আগে লিভারপুলে যোগ দিয়ে হয়েছেন ভরসা।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত ৬৪ ম্যাচে ফন জিককে ড্রিবলে বোকা বানিয়ে কেউ গোল করতে পারেনি। গত মৌসুমে লিভারপুলকে জিতিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, প্রিমিয়ার লিগ হাতছাড়া হয়েছে একটুর জন্য। চেলসিকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপও জিতিয়েছেন ক্লাবকে। নেদারল্যান্ডসকে নেশন্স লিগের ফাইনালে তুলেছেন যোগ্য অধিনায়কের মতোই খেলে।
সেখানে আর্জেন্টিনার জার্সিতে হতাশ করলেও বরাবরের মতো গত ক্লাব মৌসুমও দারুণ কেটেছিল মেসির। বার্সেলোনাকে লা লিগা জিতিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল ও কোপা ডেল রের ফাইনালে তুলেছেন। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আছে লিগে সর্বোচ্চ ৩৬ গোল করে পিচিচি ট্রফি ও ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জয়ের স্মৃতি। উয়েফা সেরার গত আসরে সর্বোচ্চ ১২ গোলও তারই। তবে কেবল সেরা ফরোয়ার্ড হয়েই মোনাকো থেকে ফিরতে হল তাকে।
রোনালদো সেখানে জুভেন্টাসে পা দিয়ে প্রথম মৌসুমটা দারুণ কাটিয়েছেন। তুরিনের বুড়িদের টানা অষ্টম সিরি আ শিরোপা জেতাতে ভূমিকা রেখেছেন। লিগে ২১ গোল তার, সব ক্লাব প্রতিযোগিতা মিলে সেখানে ২৮ গোল নামের পাশে। পর্তুগাল জার্সিতে উয়েফা নেশন্স লিগ জিতেছেন। যার সেমিফাইনালে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেছেন। কিন্তু মোনাকো থেকে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে!







