লিওনেল মেসি দর্শনীয় ফ্রি-কিকে একটি গোল করলেন, সতীর্থদের বল বানিয়ে দিয়ে দুটি গোল করালেন, কোপা আমেরিকায় আরেকবার উড়ল আর্জেন্টিনার স্বপ্ন। ইকুয়েডরকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকেট কেটেছে আর্জেন্টিনা।
শনিবার সকালের ম্যাচে কোপার চতুর্থ কোয়ার্টারে ইকুয়েডরকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেরা চারে গেছে আর্জেন্টিনা। মেসির এক গোলের সঙ্গে লিওনেল স্কালোনির মুখে হাসি ফোটানো বাকি গোল দুটি রদ্রিগো ডে পল ও লৌতারো মার্টিনেজের।
সেমিতে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তৃতীয় কোয়ার্টারে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে উরুগুয়েকে ৪-২ গোলে হারিয়ে সেমিতে এসেছে কলম্বিয়ানরা।
টানা চতুর্থবার কোপার সেমি নিশ্চিতের দিনে প্রথম গোলের দেখা পেতে ৪০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় আর্জেন্টিনাকে। মেসির বানিয়ে দেয়া লোপ্পা থেকে জাল খুঁজে নেন ডে পল।
অবশ্য শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ রক্ষণে চাপ দিতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা। চতুর্থ মিনিটে মার্টিনেজের শট ফেরান গোলরক্ষক হেরমান। ১৭ মিনিটে মার্টিনেজের আরেকটি প্রচেষ্টা প্রতিহত হয় ইকুয়েডর রক্ষণে।
ম্যাচের ২৩ মিনিটে সেরা সুযোগটি হাতছাড়া করেন মেসি। ইকুয়েডর রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে ভোঁ-দৌড়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক, সামনে কেবলমাত্র গোলরক্ষক হেরমান একা, মেসির শট ফেরত আসে পোস্টে লেগে।
বিরতির আগে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে অবশেষে ৪০ মিনিটে জালের গেরো খোলে আর্জেন্টিনা। মেসির বাড়িয়ে দেয়া বল আলতো টোকায় লক্ষ্য ঠেলে দেন ডে পল। জাতীয় দল জার্সিতে তার অভিষেক গোল।
বিরতির আগে আগে মেসির ফ্রি-কিকে গঞ্জালেসের দ্রুতগতির হেডে দেয়াল হন ইকুয়েডর গোলরক্ষক। ফিরতি শটও ঠেকিয়ে দেন সেই হেরমানই।
মধ্যবিরতির পর ফিরে পরপর দটি সুযোগ নষ্ট করে ইকুয়েডর। ৭০ থেকে ৮০ মিনিটে দুবার অল্পের জন্য জালের দেখা পাননি মেসি। সেটি পুষিয়ে দেন ৮৪ মিনিটে। তার বানিয়ে দেয়া আরেকটি লোপ্পায় জালের দেখা পান লৌতারো।
ম্যাচে তখন আর্জেন্টিনার জন্য নিশ্চিত জয়ের সুবাস। কিন্তু কী যেন একটা অধরা থেকে যাওয়া ভাব। যার দারুণ প্রদর্শনীতে সেমির টিকেট পেতে চলেছে আর্জেন্টিনা, সেই মেসির একটা গোল না হলে যেন পূর্ণতা পায় না কিছুই!
সেই গোলটিও আসে, যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে। বক্সের লাইন ঘেঁষে ডি মারিয়াকে টেনে ফেলে দিয়ে শটের সুযোগ করে দেন ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনক্যাপেই।
সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান মেসি। দর্শনীয় বাঁকানো ফ্রি-কিকে আসরে নিজের চতুর্থ গোলটি তুলে নেন মহাতারকা। পিয়েরো তার আগেই লাল কার্ডে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।








