বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়াতে বাকি মাত্র এক মাস। উন্মাদনা এখনই টের পেতে শুরু করেছেন ক্রীড়ামোদীরা। ফুটবল জোয়ারে মাতার অপেক্ষায় সবাই। যার বাইরে নন দেশের ক্রিকেট তারকারাও। তবে মুশফিকুর রহিমের দুঃখের তালিকায় আছে এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপ। টাইগারদের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান যে দলের সমর্থক, তারা যে বাছাইপর্বই উতরাতে পারেনি!
ক্রিকেটাঙ্গনে মাশরাফী-তামিমের আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল তর্কযুদ্ধ হরহামেশাই দেখা যায়! মুশফিকের ব্যাপারটা সেখানে ভিন্ন। তার প্রিয় দল নেদারল্যান্ডসের রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না। তবুও বিশ্বকাপ নিয়ে তার উন্মাদনার কমতি নেই। কারণ মুশির প্রিয় খেলোয়াড় মেসি খেলছেন বিশ্বকাপ। সেজন্য এবার আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন দেবেন মুশফিক।
‘আমি মেসির খুব বড় ভক্ত। আমি চাই আর্জেন্টিনা অনেকদূর যাক। আর মেসির খেলা যেন বেশি দেখতে পারি। যে টিমই চ্যাম্পিয়ন হোক না হোক, সেরা টিমটাই বিশ্বকাপ জিতবে।’
মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের একটি রেস্টুরেন্টে ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটান মুশফিক। মাথায় পরে আসেন বার্সেলোনার ক্যাপ। তাতে সবার আগ্রহ জাগে মুশফিক আসলে কোন দলের সমর্থক। তখনই জানালেন, ২০১০ বিশ্বকাপের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস তার প্রিয় দল, ‘চুলের অবস্থা বেশি ভালো নেই এজন্য ক্যাপ পড়ে এসেছি। আমি যে দলকে সাপোর্ট করি, দুঃখজনক হল সে দল নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেনি।’
ফুটবল জোয়ার মনেপ্রাণে অনুভব করলেও আপাতত ব্যাট-বল নিয়েই ভাবতে হচ্ছে মুশফিককে। জুনে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ। মিরপুরে শুরু হয়েছে অনুশীলন ক্যাম্প। আফগান দলে আছেন রশিদ খানের মতো বিশ্ব কাঁপানো লেগস্পিনার! মুশফিক জানালেন, রশিদকে সামলাতে নেটে জুবায়ের হোসেন লিখনের বল বেশি বেশি খেলছেন ব্যাটসম্যানরা। লিখন স্কোয়াডের বাইরে থাকলেও ফেরার তাড়নায় বোলিং করে যাচ্ছেন নিয়মিত। মুশফিক জানালেন এই লেগস্পিনার উন্নতির কথাও।
‘শুধু এই সিরিজ না, আমরা যেকোনো সিরিজের আগেই প্রতিপক্ষের কার্যকরী বোলার কী রকম হয় ওরকম পার্টিকুলার বোলার আমাদের দেশে আছে কিনা বা কাছাকাছি মানের কেউ আছে কিনা, তাকে নিয়ে এসে চেষ্টা করি। পুরোপুরি ওরকম না হলেও খেলতে খেলতে অভ্যাসে পরিণত হয়। আর লিখন আগের চেয়ে অনেক ভালো বোলিং করছে। তিন-চারদিন ওকে খেলেছি। রশিদ খানের সঙ্গে মিল হল, লিখন অনেক জোরের উপরে বল করে। যেটা কিনা রশিদ খান করে থাকে। এই প্র্যাকটিসটা করলে অবশ্যই উপকার হবে।’
‘ম্যাচে এক্সিকিউশন একটা ভিন্ন জিনিস। আর রশিদকে তো আমরা অনেকেই বিপিএলে খেলেছি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে স্পেশালি যারা খেলেছে ইমরুল, তামিম, আমরা ওদের সঙ্গেই কথা বলছি। চেষ্টা করছি বোলিং সম্পর্কে যতটুকু তথ্য নেয়া যায়। আসল ব্যাপার হল সামনে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাট, যে বোলারই হোক আমাদের অবশ্যই রানের জন্য খেলতে হবে। আমার মনে হয় যথেষ্ট কোয়ালিটি ব্যাটসম্যান আমাদের আছে। এরকম এক-দুইজন না তিন-চারজন বোলারকে মানিয়ে ব্যাটিং করার সক্ষমতা আছে। আশা করছি দারুণ একটা সিরিজ হবে।’ যোগ করেন মুশফিক।







