আজ শেষ হচ্ছে বইমেলা। একমাস ধরে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে অমর একুশ গ্রন্থমেলা চলেছে। অনেকেই পকেট খালি করে বুকসেলফ ভারী করেছেন। লেখক-পাঠক মিলনের মেলার শেষদিন লেখক, প্রকাশক, পাঠকের বুকে ছিল চিনচিনে ব্যথা। এই মধুক্ষণের জন্য যে অপেক্ষা করতে হবে আরেকটি দীর্ঘ বছর!
টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিকসেতু মিঠু করুণ সুরে বললেন, ‘প্রায় প্রতিদিন মেলায় এসেছি। দিনের কাজ দ্রুত শেষ করতাম, বিকেলে মেলায় যাব বলে। লেখকদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি। নতুন বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখেছি। পছন্দ হলে কিনেছি। ভাবতেই খারাপ লাগছে যে আগামীকাল এই এলাকা ধূ-ধূ মরুভূমির মতো হয়ে যাবে।’
আরিফুজ্জামান নামে এক পাঠক জানালেন, তিনি কলকাতা বইমেলাও দেখেছেন। সেই মেলা এত সাজানো গোছানো না। এত প্রাণবন্তও না। এত মানুষ আসে না। সবার হাতে বই থাকে না। বাচ্চারা বই কিনতে আসে না।। তার কাছে মনে হয়েছে এটাই বাঙালির সেরা উৎসব।
লেখক ফরিদুল ইসলাম নির্জন বলেন, ‘সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস করি। দুপুর হতেই মন আনচান করতে থাকে। কখন অফিস শেষ হবে, মেলায় যাব। এভাবেই গেছে এই এক মাস।’
শুরু থেকেই এবার মেলা হয়ে ওঠে জমজমাট। ছুটির দিনগুলোতে উপচে পড়া ভীড় ছিল। ছিল স্টল কর্মীদের ব্যস্ততা। অন্য দিনগুলোতে ভিড় কম হলেও বিক্রি ছিল বেশ।
অনিন্দ্য প্রকাশনীর এক বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘এবার বিক্রি ভালো হয়েছে। আমাদের এখানে বেশি চলেছে সায়েন্সফিকশন ও উপন্যাস।’
শিশুদের স্টলের দিক থেকে জানানো হলো, শিশুরা ভূতের বই হাতের কাছে পেলেই লুফে নিচ্ছে। শিশুরাজ্য প্রকাশনীর সবচে বেশি বিক্রি হওয়া বইয়ের বেশিরভাগই ভূতের বই। রঙচঙ দিয়ে ছবি আঁকা ছড়ার বড় বইগুলোও ভালো চলেছে।
কবি রাব্বী আহমেদ জানালেন, অনেক পাঠকই কবিতার বইও কিনেছেন। তবে উপন্যাসের তুলনায় কম। এছাড়া দর্শন ও প্রযুক্তি নির্ভর বইগুলোর চাহিদা বেশ।
মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অবশ্য কারো কারো দীর্ঘশ্বাস থেকেই গেল। অনেকেই বলছেন, স্টল বিন্যাসে ধারাবাহিকতা নেই। ফলে স্টল খুঁজে পেতে সমস্যা হয়েছে।
লিটলম্যাগের জন্য স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয় বাংলা একাডেমির বহেরা চত্বর। আর মুল বইয়ের স্টল থাকে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন লিটলম্যাগ সম্পাদকরা।
ছোটকাগজ ‘প্রকাশ’ এর সম্পাদক শফিক হাসান বলেন, অনেকে জানেই না বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেও বই পাওয়া যায়। যারা বই কিনতে আসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বই কিনে চলে যায়।’
আগামীবার বইয়ের স্টলের আশপাশেই লিটলম্যাগের স্টল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন সম্পাদকরা।








