‘মেহেরজান’ খ্যাত নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’। ভিনদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব সহ বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পেয়েছে ফ্রান্স, ডেনমার্ক, কানাডা ও পর্তুগালের বিভিন্ন সিনেমা হলে। এবার দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। তবে অন্য নামে!
সম্প্রতি রুবাইয়াত জানিয়েছেন, ১১ মার্চ দেশের প্রেক্ষাগৃহে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘শিমু’ নামে! এ নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশানের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন নির্মাতা।
ভিনদেশে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে আলোচনা সৃষ্টি করলেও দেশের প্রেক্ষাগৃহে কেন ‘শিমু’ নামে মুক্তি দিচ্ছেন? এসব প্রশ্নের খোলাখুলি উত্তর দেন রুবাইয়াত। জানিয়েছেন, ‘শিমু’ নামেই শুরুতে এই ছবির নাম প্রযোজক সমিতির তালিকাভুক্ত হয়েছিলো। তাই সিনেমাটি মুক্তির সময় সেন্সর বোর্ড সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কাগুজে ঝামেলা এড়াতেই সেই নামেই সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে যাচ্ছেন।
রুবাইয়াত বলেন, আমি ‘শিমু’ নামেই এই ছবির চিত্রনাট্য লিখতে বসি। কিন্তু পরে যখন আন্তর্জাতিকভাবে কো-প্রডিউসার এবং ডিস্ট্রিবিউটররা এই ছবির সাথে যুক্ত হন, তখন গ্লোবাল রিলিজের জন্য নাম পরিবর্তন করে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ রাখা হয়। তবে বাংলাদেশে রিলিজের জন্য ‘শিমু’ নামটাই আমার কাছে বেশি উপযুক্ত এবং গল্পের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে হয়েছে। তাছাড়া ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ (মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনা) নামে একটি চলচ্চিত্র আছে, এটা নিয়েও একটা কনফিউশন তৈরী হওয়ার সুযোগ আছে। এসব বিবেচনা করেই বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য ‘শিমু’ নামটিই আমাদের কাছে সঠিক বলে মনে হয়েছে।
প্রতিকূলতাকে জয় করে সামনে এগিয়ে চলা প্রতিটি সংগ্রামী মানুষের গল্প-ই ‘শিমু’। সমতার প্রশ্নে ‘শিমু’ একজন সম্মুখযোদ্ধা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে রুবাইয়াত হোসেনের এই ছবিটি মুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।
রুবাইয়াত বলেন, বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে পোশাকশিল্পের যে ভূমিকা আছে তার আলোকে দৃঢ়চেতা নারী পোশাকশ্রমিকদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প বলা হয়েছে ‘শিমু’ চলচ্চিত্রে।
রুবাইয়াত হোসেনের পাশাপাশি ছবিটির মূল কুশলীদের অধিকাংশই নারী। চিত্রগ্রহণে সাবিন ল্যাঞ্চেলিন, শব্দগ্রহণে এলিশা আলবার্ট, এবং শিল্প নির্দেশনায় জোনাকি ভট্টাচার্য এর নাম উল্লেখযোগ্য।
মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু। এছাড়া আরো অভিনয় করেছেন নভেরা হোসেন, দীপান্বিতা মার্টিন, পারভীন পারু, মায়াবি মায়া, মোস্তফা মনোয়ার, শতাব্দী ওয়াদুদ, জয়রাজ, মোমেনা চৌধুরী, ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও সামিনা লুৎফা প্রমুখ। দুটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিতা চৌধুরী ও ভারতের শাহানা গোস্বামী।

২০১৬ সালের লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবে ওপেন ডোরস ল্যাব এ অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় চলচ্চিত্র ‘শিমু’ এর কাজ। চিত্রনাট্যের জন্য রুবাইয়াত হোসেন জিতে নেন আর্টে ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার।
টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের পর ছবিটি প্রদর্শিত হয় ৬৩তম বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত ও পুরস্কৃত হয়েছে ছবিটি। ফ্রান্সের সেইন্ট জঁ দ্য-লুজ চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন রিকিতা নন্দিনী শিমু। ইতালির টোরিনো বা তুরিন চলচ্চিত্র উৎসবে পেয়েছে ইন্টারফেদি পুরস্কার এবং ফ্রান্সের এমিয়েন্স আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জিতে নিয়েছে সেরা দর্শক পুরস্কার ও জুরি পুরস্কারসহ ৩টি পুরস্কার।
বাংলাদেশের খনা টকিজ ও ফ্রান্সের লা ফিল্মস দ্য এপ্রেস-মিডির ব্যানারে নির্মিত ‘শিমু’ ছবিটির প্রযোজক ফ্রঁসোয়া দক্তেমা ও আশিক মোস্তফা এবং সহ-প্রযোজক পিটার হিলডাল, পেদ্রো বোর্হেস, আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ ও রুবাইয়াত হোসেন। আর ছবিটির পরিবেশনা ও আন্তর্জাতিক বিক্রয় প্রতিনিধি ফ্রান্সের পিরামিড ফিল্মস।
২০১৯ এর ডিসেম্বরে ফ্রান্স, ডেনমার্ক, কানাডা ও পর্তুগালের বিভিন্ন সিনেমা হলে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পায় ছবিটি। এরপর ২০২০ আমেরিকার বিভিন্ন হলে প্রদর্শনের পর ছবিটির বাণিজ্যিকভাবে দেখানো হয় ম্যাক্সিকো, চীন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক ও জার্মানীর সিনেমা হলে। আর মার্চে বাংলাদেশে মুক্তির পরপরই এপ্রিল চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে জাপানের বিভিন্ন সিনেমা হলে।
প্রথম ছবি মেহেরজান (২০১১) এবং দ্বিতীয় ছবি আন্ডার কনস্ট্রাকশন (২০১৫)-এর পর ‘শিমু’ রুবাইয়াত হোসেনের তৃতীয় ছবি।








