বেইলি সেলারের আজ ২১ তম জন্মদিন। দিনটা শুরু হওয়ার কথা প্রিয়জনের ভালোবাসা আর আনন্দ দিয়ে। কিন্তু এবারের জন্মদিনটা তার ভালোবাসায় শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়েছে আরও বেশি যন্ত্রণার।
কারণ আজ তিনি পেয়েছেন তার বাবার পক্ষ থেকে পাঠানো শেষ ফুলের তোড়াটি। যে বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সেই পাঁচ বছর আগে।
যুক্তরাষ্ট্রের নক্সভিলের অধিবাসী বেইলির ১৬ বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। মৃত্যুর আগেই স্থানীয় একটি ফ্লোরাল ডেলিভারি সার্ভিসকে অগ্রিম টাকা দিয়ে চুক্তি করেন তিনি, যেন পরবর্তী পাঁচ বছর তার নির্দেশনামতো তৈরি একটি ফুলের তোড়া মেয়ের জন্মদিনে পাঠানো হয়।
প্রতি বছর সেই ফুলের তোড়ার সঙ্গে পাঠানোর জন্য একটি করে নোটও লিখে রেখে যান তিনি, যেন ছোট্ট কিশোরী মেয়েটা বড় হওয়ার সময়টায় বাবাকে পাশে না পেলেও জন্মদিনগুলোতে অন্তত বাবার উপস্থিতি অনুভব করে।
এ বছরের ফুল আর নোট ছিল বাবার পক্ষ থেকে বেইলির জন্য পাঠানো শেষ উপহার। নোটে লেখা ছিল:
বেইলি,
আমাদের আবার দেখা হওয়া পর্যন্ত এটাই হচ্ছে তোমার জন্য আমার শেষ চিঠি। আমি চাই না আমার বাচ্চা মেয়েটা আমার জন্য আর এক ফোঁটাও চোখের জল ফেলুক, কারণ আমি এখন অনেক ভালো একটা জায়গায় আছি। তুমি আমার পাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান রত্ন এবং চিরকাল তা-ই থাকবে।
আজ তোমার ২১ তম জন্মদিন। আমি চাই তুমি সবসময় তোমার মাকে সম্মান করো এবং নিজের প্রতি সৎ থাকো। সুখে থেকো এবং জীবনটাকে পুরোপুরি উপভোগ করো।
আমি জীবনের প্রতিটি মাইলফলকে তোমার সঙ্গে থাকব। একবার শুধু আশপাশে তাকিয়ো, আমায় খুঁজে পাবে। অনেক ভালোবাসি তোমায় বু বু! শুভ জন্মদিন!!!
বাবা।
আবেগাপ্লুত বেইলি টুইটারে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে মৃত বাবার পক্ষ থেকে আসা ফুলের তোড়া, বাবার নিজ হাতে লেখা শেষ চিঠি আর বেইলির ছোটবেলায় বাবার সাথে তোলা একটি ছবি যোগ করে বেইলি বর্ণনা করেছেন তার অসাধারণ বাবা মৃত্যুর পরও মেয়ের পাশে থাকার জন্য কী করে গেছেন। তারপর লিখেছেন, ‘তোমায় খুব বেশি মনে পড়ে বাবা।’
বেইলির এই টুইটবার্তায় অনেকেই সহানুভূতি ও দুঃখ প্রকাশ করেছে কমেন্ট করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘এগুলো দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। আপনার স্বজন হারানোর বেদনায় আমিও দুঃখিত। উনি যা আপনার জন্য করেছেন তা একই সঙ্গে কষ্টের এবং আবেগপূর্ণ।’
বেইলি এর জবাবে বলেন, প্রতি বছর জন্মদিনের জন্য তিনি অপেক্ষা করতেন। ভাবতেন বাবা তার সঙ্গেই আছেন। কিন্তু এই বছরই চিঠি আর ফুল আসার শেষ বছর। তাই মনটা ভেঙে যাচ্ছে তার।







