কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শীর্ষ নেতা মুহিব উল্লাহকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ প্রকাশ লম্বা সেলিম (৩৫) নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার ১ অক্টেবর বেলা ১১ টায় উখিয়ার কুতুপালং ৬নং ক্যাম্প থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ক্যাম্পে নিরাপত্তার দ্বায়িত্বরত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যরা।
১৪ এপিবিএন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাইমুল হক জানান, রোহিঙ্গা শীর্ষ নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ প্রকাশ লম্বা সেলিম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, মহিব উল্লাহ নিহত হওয়ার পর সকল ক্যাম্পগুলোতে এপিবিএন সহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়।
বিকালে আসরের নামাজ শেষে উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নামাজে জানাজা শেষে মুহিব উল্লাহর মৃতদেহ দাফন করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে রোহিঙ্গা শীর্ষ নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই হাবিব উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে উখিয়া থানায় মামলা (নং-১২৬) দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১ ইস্ট-ওয়েস্ট (ডি ব্লকে) এশার নামাজ শেষে নিজ অফিসে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গারা ৫ রাউন্ড গুলি করে রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহকে। এসময় ৩ রাউন্ড গুলি তার বুকে লাগে। খবর পেয়ে এপিবিএন সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ‘এমএসএফ’ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিজ দেশ মিয়ানমারের আরাকানে ফিরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের দাবি-দাওয়া নিয়েই লড়ে আসছিলেন রোহিঙ্গা শীর্ষ নেতা মুহিব উল্লাহ। ২০১৯ সালের ২৫ আগষ্ট কুতুপালং শিবিরে রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশ করে তিনি আলোচনায় আসেন।
পরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট সফর করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্ফের সাথেও দেখা করেন। সেই থেকে রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচনায় আসেন।








