ক্রিকেট ইতিহাসে বোলিংয়ে কাটার শব্দটা নতুন কিছু নয়। এর আগেও ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, রিচার্ড হ্যাডলি, ইয়ান বোথামরা অফ কাটার, লেগ কাটার বল করেছেন। তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম বাংলাদেশের তরুণ তুর্কী মুস্তাফিজুর রহমান। কী এমন রহস্য মুস্তাফিজের বোলিংয়ে! যার জন্য সম্প্রতি নাজেহাল হতে হয়েছে ভারতকে?
ডেব্যু ওডিআইতে পাঁচ উইকেট আর পরের ম্যাচে ছয় উইকেট নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে ভয়ংকর সুন্দর কাটার দেখিয়েছেন মুস্তাফিজ। চলতি সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও কুইন্টন ডি কক কে একমাত্র পেসের জোরেই পরাস্ত করেছিলো মুস্তাফিজ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঘন্টায় ১২০ থেকে ১২৫ কিলোমিটার বেগে বল যে অহরহ করতে পারে তাকে তো সম্মান দিতেই হবে। মুস্তাফিজ বল সুইং করার সাথে সাথে দুই ধরনের কাটার যোগ করেন। একটা স্লোয়ার এবং অন্যটা ফাস্ট।
কোনটা স্লোয়ার এবং কোনটা ফাস্ট সেটা নিয়ন্ত্রণ করে মুস্তাফিজের বলের উপরে রাখা দুই আঙুল। বলের এই বৈচিত্র্যের ফলে ব্যাটসম্যানরা দ্রুত বুঝতে পারেন না কোনটা স্লোয়ার এবং কোনটা ফাস্ট।
মুস্তাফিজের বোলিংয়ের বৈশিষ্ট্য হলো স্লোয়ার ও কাটার সঙ্গে আউট সুইং। এটার সঙ্গে ওর স্টকে দুটো ভেরিয়েশন আছে। একটা স্লোয়ার অফ কাটার, একটা ফাস্ট অফ কাটার। ওর স্লোয়ার ও ফাস্ট কাটারের মধ্যে ওর হাতের অ্যাকশনের যে পার্থক্য, এটা ব্যাটসম্যানদের পক্ষে ধরা প্রায় অসম্ভব। ফলে ব্যাটসম্যানরা বুঝতেই পারছিল না যে, ওর কোন কাটারটা স্লোয়ার আর কোন কাটারটা ফাস্টার। মুস্তাফিজ আরো একটি অস্ত্র বোলিংয়ে ব্যবহার করে, তা হলো পিচের ধরণ মতো বাউন্সার দেওয়া।
বিশ্বের সেরা সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে সফল লম্বা রেসের ঘোড়া, বিস্ময় বালক মুস্তাফিজ। অমিত বোলিং প্রতিভার অধিকারী মুস্তাফিজের বোলিং রহস্যটা নাহয় অজানাই থাক। উন্মোচিত না হোক এ রহস্যের।
(ক্রিকইনফোতে প্রকাশিত আকাশ চোপড়ার প্রতিবেদন থেকে অনুদিত)







