চমক দিয়েই অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের বিস্ময় বালক পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের। টি-২০ ও ওয়ানডের পর টেস্ট অভিষেকটাও হলো চমক দিয়ে। এক ওভারে ৩ উইকেটসহ ৩৭ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে রীতিমতো গুড়িয়ে দেন সাউথ আফ্রিকার ইনিংস। অভিষেকে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা বোলিং। জিয়াউর রহমানের ৬৩ রানে ৪ উইকেট এতদিন ছিল দ্বিতীয় সেরা।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং আরেক বাঁহাতি মঞ্জুরুল ইসলামের। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে তিনি নিয়েছিলেন ৮১ রানে ৬ উইকেট।
হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি গিয়ে শেষ পর্যন্ত হয়নি। ওয়ানডে ও টেস্ট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়ে তিনবার হ্যাটট্রিকের সামনে গিয়েও হলো না। ইতিহাসের তৃতীয় বোলার হিসেবে রেকর্ড পাতায় তার নাম উঠলো না। অভিষেকে এর আগে মাত্র তিনজন বোলার হ্যাটট্রিক করেছেন।
সেই ১৯৩০ সালে প্রথমটি করেছিলেন ইংলিশ পেসার মরিচ অ্যালম। ১৯৭৬ সালে লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয়টি করেছিলেন নিউজিল্যান্ড স্পিনার পিটার পেথেরিক। আর ১৯৯৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেই তৃতীয় ও সবশেষ হ্যাটট্রিকটি করেন অস্ট্রেলিয়ার ডেমিয়েন ফ্লেমিং।
টেস্টের আগের এই সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নেন ৫ উইকেট। আর দুই ম্যাচের টি-২০ সিরিজে অবশ্য উইকেট পান ১টি।
এর আগে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে ১৩ উইকেট নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন মুস্তাফিজ। প্রথম ম্যাচে ৫০ রানে ৫ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৩ রানে নেন ৬ উইকেট। শেষ ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান পেসার রায়ান হ্যারিসের তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। তবে হ্যারিসের রেকর্ডটি ছিলো পাঁচ ম্যাচের সিরিজে।
তার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন মুস্তাফিজ। অভিষেক ম্যাচে টি-২০-এর অন্যতম বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান পাকিস্তানি অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদিকে আউট করে নিজ প্রতিভার জানান দেন তিনি। ওই ম্যাচে পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজকেও সাজঘরে ফিরিয়ে ছিলেন মুস্তাফিজ।
টি-২০তে শহিদ আফ্রিদি, ওয়ানেডে রোহিত শর্মা এবং টেস্টে হাশিম আমলাকে দিয়ে উইকেটের খাতা খোলেন মুস্তাফিজ। ৬ ওয়ানডে ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ১৮টি। আর তিনবার হ্যাটট্রিকের কাছে গিয়েও পারেননি। হ্যাটট্রিক হয়নি তাতে কি, প্রতিটি ফরম্যাটের অভিষেকে মুস্তাফিজ যা করে দেখালেন তাতে বোঝাই যাচ্ছে ক্রিকেটে তার রাজত্ব হতে যাচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী।







