মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে সেমিফাইনালের জন্য অনুশীলনে ব্যস্ত প্রতিযোগিতার অন্যতম ফেবারিট ভারত। বাউন্ডারি সীমানার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ভারতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার।
তবুও তাদের দিকে নয়, সবার নজর মাঠের ঠিক মাঝখানে। কারণ সেখানেই ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে ভারতের জুনিয়র টিমের কোচ।
তিনি রাহুল দ্রাবিড়। চলমান যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটে তিনিই তো সবচেয়ে বড় তারকা। এক হাতে শর্ট ব্যাটে (ফিল্ডিং এবং ক্যাচ প্র্যাকটিসের জন্য বানানো বিশেষ ব্যাট) একের পর এক বল পাঠিয়ে ঠিকঠাক করে নিচ্ছিলেন নিজের দলের ফিল্ডিং অনুশীলন।
অনুশীলন শেষ করে ভারতীয় অধিনায়ক ইশানকে নিয়ে রাহুল দ্রাবিড় আসলেন হোম অব ক্রিকেটের প্রেস কনফারেন্স কক্ষে।
মিরপুরের এই প্রেস কনফারেন্স রুমে এর আগেও এসেছেন রাহুল দ্রাবিড়, কখনো টিম-ইন্ডিয়ার ক্রিকেটার, কখনো ক্যাপ্টেন হিসেবে। আর এবার এসে কথা বললেন কোচ রাহুল।
শুরুটাও ঠিক যেন তার সেই ‘কপিবুক’ ব্যাটিংয়ের মতোই। চেয়ার টেনে যখন বসলেন মনে হলো ব্যাট হাতে মাত্রই নামলেন ২২ গজে। ঠাণ্ডা, ধীর, স্থির সেই পুরনো রাহুল দ্রাবিড়। ‘দ্য ওয়াল’ কথাও শুরু করলেন নিজের মতো। যেন বড় ইনিংস খেলতেই ক্রিজে আসলেন।
দ্রাবিড় আসবেন জেনে সাংবাদিকরাও আলাদা উৎসাহ পেলেন। শুরু হলো প্রশ্নবান…
ক্রিকেটার কিংবা ক্যাপ্টেন হিসেবে বিশ্বকাপ জিততে না পারা ভারতীয় লিজেন্ডের কাছে প্রশ্ন ছিলো এবার কি সে আক্ষেপ পূরণ হচ্ছে? উত্তর নয় যেনো এলো, কোন ক্ল্যাসিক্যাল অন ড্রাইভ, শন শন করে তা বাউন্ডারি পেরিয়ে গেলো।
চোখের সামনে ভেসে উঠলো নীল হেলমেটের আড়ালে হাসি মাখা বোলারদের জমদূতের প্রতিচ্ছবি। অর্থাৎ লেগ স্ট্যাম্পে পিচ পড়া বলে অনড্রাইভে বাউন্ডারি মারা সেই দ্যা ডিপেন্ডেবল।
বললেন, আমি দুটো বিষয়কে এক সাথে মেলাতে চাই না। দুটা আলাদা জিনিস। আপনাকে মানতেই হবে একটা টিমের সবকিছুই আসলে খেলোয়াড়রা। এখানে খুব সামান্যই কোচের অবদান। কোচের কাজও ভিন্ন। আর তা হলো দলের খেলোয়াড়দের তাদের নিজের খেলা নিয়ে সহয়তা করা। আমি বিশ্বকাপ পাই বা না পাই তা নিয়ে এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে মেলাতে চাই না। এটা আলাদা এসাইনমেন্ট।
ঘুরে ফিরে আসলো বাংলাদেশ এবং বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রসঙ্গ।
রাহুল বললেন, সাকিব, মুশফিক এবং অবশ্যই মুর্তজা (মাশরাফি)। এই নামগুলোই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা অর্জন। তারা শুধু বাংলাদেশী ক্রিকেটারই নন তারা এখন আন্তর্জাতিক তারকাও। তবে পুরো বিশ্বকে জানান দিতে শুধু দেশের মাটিতে নয় বাইরে গিয়েও বাংলাদেশকে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। সাকিব-মাশরাফিরা তা জানেও কিভাবে কি করতে হবে, শুধু সময়ের অপেক্ষা।
সাকিব, মাশরাফি এবং মুশফিকের প্রসঙ্গ শেষ হতে না হতেই চলে আসরো আরেক সেনসেশনের নাম। তিনি মুস্তাফিজুর রহমান। গত হোম সিরিজে নিজের অভিষেকে এই মুস্তাফিজের কাছেই ঘায়েল হয়েছিলো টিম-ইন্ডিয়া, কিন্তু সেই মুস্তাফিজের বোলিং এখনো অদেখা দ্য ওয়ালের।
বললেন, এখনও ভালো করে দেখিনি তোমাদের এই বোলারকে। তাই এই মুহূর্তে তেমন কিছু বলতে পারছি না তার সম্পর্কে। তবে লোকমুখে শুনেছি বাঁ-হাতি এই তরুণ পেসার দুর্দান্ত রিদমে বলে করে। তার ভবিষ্যতও উজ্জ্বল মনে করি। দেখা যাক কি হয়।
এসব বলতে বলতেই চিরচেনা সেই হাসি মাখা মুখে রাহুল নিজের কথা বলা শেষ করলেন, মাইক ছেড়ে দিলেন ভারতীয় যুব অধিনায়ককে। ৪৩ বছর বয়েসী মিস্টার ডিপেন্ডেবলকেই নিজেদের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের হেড কোচের দায়িত্ব দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছে ভারতীয় বোর্ড। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টটা তাই স্মরণীয়ই করতে চাইবেন রাহুল দ্রাবিড়।






