সাকিব আল হাসান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষে দেশে ফিরেই আঙুলে অস্ত্রোপচার করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এশিয়া কাপ মর্যাদার লড়াই, তাকে দলেরও প্রয়োজন, তাই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই চোট নিয়ে আরব আমিরাতে খেলছেন টাইগারদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। মুশফিকুর রহিম এশিয়া কাপ খেলছেন ভাঙা পাঁজর নিয়ে। চোটে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পড়েছেন তামিম ইকবাল। মঙ্গলবার দেশে ফিরে তামিম বললেন, মুশফিক-সাকিবের এই নিবেদন পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতারই দারুণ এক নজির।
আঙুলের চোট নিয়ে একের পর এক ম্যাচ খেলে যাচ্ছেন সাকিব। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলতে নামার আগে মুশফিককে খেতে হয়েছে ২৫টি ব্যথানাশক ট্যাবলেট। ব্যথায় কুকড়ে যেতে যেতে ২২ গজে খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা ১৪৪ রানের ইনিংস। ২০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও খেলতে নামার কথা মুশফিকের।
সাকিব-মুশফিক ঝুঁকি নিয়েও দলের সাথেই আছেন। চেষ্টা করে যাচ্ছেন সেরাটা দিতে। কিন্তু তামিমের সে অবস্থাও নেই। চোট নিয়ে দেশে ফেরা তামিমকে তাই বিমানবন্দরে দেখা গেছে বিষণ্ণচিত্তেই। এশিয়া কাপে খেলতে না পারার হতাশা ফুটে ছিল তার চোখেমুখে। তবে মুশফিক প্রসঙ্গ উঠতেই চেহারায় ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুশির চার-ছক্কার ঝড় যেন ভেসে উঠছিল তার চোখের সামনে।

‘মুশফিক ইনজুরি নিয়েই তো ১৪৪ করেছে! আশা করি আবারও ইনজুরি নিয়ে আরেকটা সেঞ্চুরি করবে (হাসি)। সাকিব অনেকদিন ধরে আঙুলের সমস্যায় ভুগছে। সে এই হাত নিয়েও কিন্তু অনেক ভালো পারফরম্যান্স করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। এতটুকু বলতে পারি সবারই কমবেশি ব্যথা থাকে, কিন্তু যখন একজন খেলোয়াড় মাঠে নামে মাথায় ওসব চিন্তা আসে না। আমি জানি সাকিব ও মুশফিকের ইনজুরি কতটা। ওরা যা করে যাচ্ছে, তাতে এটা শো করে যে- কতটা ডেডিকেটেড তাদের দায়িত্বের প্রতি এবং দেশের প্রতি।’
সাকিব-মুশফিক ইনজুরি নিয়েই খেলবেন এশিয়া কাপে। তাদের কাছাকাছি মানের বিকল্প তৈরি হয়নি লম্বা সময়েও। দারুণ ফর্মে থাকা তামিমের বিকল্প তো চিন্তাই করা যায় না। তবে এ ওপেনার মনে করেন তার না থাকা প্রভাব ফেলবে না দলের মাঝে।
‘আমার মনে হয় না কোনো একজন খেলোয়াড়ের জন্য পুরো দলের পারফরম্যান্স পরিবর্তন হয়ে যাবে। এটা উচিতও না। এশিয়া কাপে আমরা যেভাবে শুরুটা চেয়েছিলাম সেটা পেয়েছি। আশা করি পুরো টুর্নামেন্টেই এভাবেই খেলব। আর চ্যাম্পিয়ন হবো কি হবো না অতদূর না ভেবে সামনের ম্যাচে কী হবে তা চিন্তা করি, তাহলেই আমাদের জন্য ভালো।’









