চট্টগ্রাম থেকে: অল্পের জন্য ছোঁয়া হয়নি তিন অঙ্ক। পাননি বিপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা। মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ার সেরা ৯৬ রানের অসাধারণ ইনিংসটি তবুও সেঞ্চুরির আক্ষেপকেও হার মানানো।
মুশফিকের ব্যাটে রাজশাহী রয়্যালসের দেয়া ১৯০ রানের বড় লক্ষ্য অনায়াসে টপকে খুলনা টাইগার্স পেয়েছে ৫ উইকেটের দারুণ জয়।
জয়ের নায়ক ও দলটির অধিনায়ক মুশফিকের ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে না আসাটা ছিল অবাক করার মতো। হয়ত সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া ও খেলাটা শেষ করে আসতে না পারায় কিছুটা হতাশা জমেছে তার মনে!
জয় থেকে দলকে ৩ রান দূরে রেখে আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার মুহূর্তে নিজের উপরই রাগ দেখাচ্ছিলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।
মুশফিক না এলেও সংবাদ সম্মেলন ছিল মুশফিকময়। খুলনার ইংলিশ কোচ জেমস ফস্টার তো বলেই ফেললেন এমন অসাধারণ ইনিংস তিনি দেখেননি খুব একটা।
‘মুশি যেভাবে মাঠের চারদিকে খেলেছে সেটা বিস্ময়কর। আমার দেখা সেরা টি-টুয়েন্টি ইনিংসের এটি একটি। বিশেষ করে পাওয়ার-প্লে’তে ২ উইকেট হারানোর পর। তখন রানও বেশি হয়নি আমাদের। এটা ছিল বিস্ময় জাগানো একটা ইনিংস। দল হিসেবে আমরা খুবই খুশি ওই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পেরে। উইকেট খুব ভালো ছিল। রান তাড়াও দারুণ হয়েছে।’
ফস্টারের আগেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যান রাজশাহীর কোচ ওয়াইস শাহ। এ ইংলিশের কণ্ঠেও ঝরল মুশফিকের ইনিংসের বন্দনা। বললেন, মুশফিক অবিশ্বাস্য ভালো খেলেছে।
‘আমাদের আরও কিছু রান হতে পারত। ১৫-২০ রানের মতো। স্কোরকার্ডই সাক্ষ্য দিচ্ছে তারা আমাদের রানটা সহজে টপকেছে। ২১০ রান হলে আদর্শ হতো। যাই হোক, মুশফিক অবিশ্বাস্য রকম ভালো খেলেছে। গ্রেট একটা ইনিংস। জুটি বেধে খেলতে থাকা রাইলি রুশোকে হারানোর পর সে যেভাবে ম্যাচটা ধরেছে তা সত্যিই খুব ভালো ছিল।’
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটে সবসময় রানের চাকা সচল থাকে। বিপিএলের গত আসরে ছয় সেঞ্চুরির চারটিই হয়েছিল এখানে। এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএল যখন সেঞ্চুরি খরায় তখন আশা জাগাচ্ছে এখানকার উইকেটই।
ঢাকায় প্রথম পর্ব শেষে চট্টগ্রাম পর্ব শুরু হতেই এক ম্যাচে জাগে দুটি সেঞ্চুরির আশা। প্রথম সুযোগটি হাতছাড়া করেন রাজশাহীর শোয়েব মালিক। ওভার থাকলেও ৮৬ রানে আউট হয়ে যান পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। রান তাড়ায় দারুণভাবে এগিয়ে যাওয়া মুশফিক কাটা পড়েন ২০তম ওভারের তৃতীয় বলে। জয় থেকে তখন ২ আর সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে মি. ডিপেন্ডেবল। বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অনের ফিল্ডারের হাতে।








