শূন্য রানে দুই ব্যাটসম্যান সাজঘরে। সেটিও ইনিংসের প্রথম দুই বলে। টানা হারের ক্ষতে শঙ্কার মেঘই জমছিল মুম্বাইয়ের। রোহিত-লুইসের শতরানের জুটি সেটি গাঢ় হতে দেয়নি। পরে কোহলির নিঃসঙ্গ লড়াইয়ের অংশটুকু ছাড়া বেঙ্গালোরের বিপক্ষে ৪৬ রানের সহজ জয়ই তুলে নিয়েছে ইন্ডিয়ান্সরা।
বল হাতে আলো ছড়াতে পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে খরচ ৫৫ রান, উইকেটশূন্যও।
মঙ্গলবার ওয়াংখেড়েতে শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ২১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। জবাবে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৭ রানের বেশি যেতে পারেনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোর।
সুরিয়াকুমার যাদব ও ইশান কিষাণ রানের খাতা খোলার আগেই উমেশ যাদবের বলে স্টাম্প খুইয়ে সাজঘরে। তখনই হাল ধরেন রোহিত শর্মা ও এভিন লুইস। দুজনে কেবল ১০৮ রানের ভিত্তিই আনেননি, ৬৬ বলের জুটিতে পাল্টা আঘাতও হেনেছেন।
লুইস ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৫ করে থামলে জুটি ভাঙে। রোহিত চালিয়ে যান শেষ ওভার পর্যন্ত। ইনিংসের এক বল বাকি থাকতে সেঞ্চুরি তুলতে যেয়ে ৯৪ রানে ক্যাচ দেন। তার বিধ্বংসী ইনিংসটি ৫২ বলের, ১০ চার ও ৫ ছক্কায় সাজানো।
শেষদিকে হার্দিক পান্ডিয়া ২ ছয়ে ৫ বলে অপরাজিত ১৭ রান এনে দেন।
রান তাড়ায় এসে নিঃসঙ্গ লড়াই চালিয়ে যান কোহলি। ওপেন করতে নেমে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক, ৯২ রানে। ৬২ বলের লড়াকু ইনিংস ৭ চার ও ৪ ছক্কায় গড়া।
বাকিদের মধ্যে ডি কক ১৯, মানদিপ সিং ১৬ ও ক্রিস ওকস ১১ ছাড়া আর কেউ দুইঅঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
এদিন বলে মোস্তাফিজের ডাক পড়ে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে। প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে বসেন ডি কক। দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল। তৃতীয় বলে কোহলির থেকে একটি ডট আদায় করে নেন ফিজ। অফস্টাম্পের বাইরে স্লোয়ার করে। চতুর্থ বলে অবশ্য সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদল করেন ভারত অধিনায়ক। পঞ্চম বলে স্ট্রাইক ফিরে পেয়েই ছক্কা মেরে দেন ডি কক। লেগসাইডে ফুল লেংথে বল পেয়ে ব্যাট ঘুরিয়ে সজোরে হাঁকান। আর শেষ বলে এক তুলে নেন। মোট ১৩ রান খরচ।
পরের ওভারে জোড়া উল্লাসে মাতে মুম্বাই। প্রথম বলে ডি কক ও চতুর্থ বলে ডি ভিলিয়ার্সকে (১) সাজঘরের পথ দেখান ম্যাকক্লেনেঘান।
বেঙ্গালোরের চাপের মুহূর্তে আবারও ফিজে ভরসা রাখেন রোহিত। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে কোহলি মেরে বসেন চার। পরের বলে সিঙ্গেল। তৃতীয় বলে মানদিপও চার হাঁকিয়ে বসেন। তবে চতুর্থ বলে ডট আদায় করে নেন কাটার মাস্টার। অফস্টাম্পে থাকা ফুল লেংথের বলটি মানদিপের ব্যাটের কানা প্রায় ছুঁয়েছিলই, অল্পের জন্য পার হয়ে যায়। পরের দুই বলে একটি করে সিঙ্গেল। শেষ হয় ১১ রানের ফিজ ওভার।
মোস্তাফিজ আবার ডাক পান ১৬তম ওভারে। ম্যাচ ততক্ষণে মুম্বাইয়ের দিকে হেলে পড়েছে। ফিরে প্রথম দুই বলে এক করে দেন। তৃতীয় বলে কোহলির ব্যাটে চার। পরের বলে সিঙ্গেল দিয়ে ফিজের যখন মোটামুটি একটা ওভারের ইঙ্গিত। তখনই রূদ্রমূর্তি ওকসের। পঞ্চম বলটি উড়িয়ে মারেন ইংলিশ অলরাউন্ডার। ওভার অবশ্য ডট বলেই শেষ টানেন মোস্তাফিজ। তবুও ১৩ রানের ওভার ওসময় বড় খরচাই!
নিজের কোটা পূরণের শেষটায় আরও খরুচে হন মোস্তাফিজ। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ছয় হাঁকান কোহলি। পরের বলটি নো দেন ফিজ, যদিও ফ্রি-হিটে আসে কেবল এক রান। চতুর্থ বলে আরেকটি ছয় মেরে সিরাজ মোস্তাফিজের দিনটি ভুলতে চাওয়ার মত করে দেন। ওই ওভারে আরও তিন সিঙ্গেলে ৪ ওভারে ৫৫ রান ঢেলে উইকেটশূন্য থাকেন বাংলাদেশি বাঁহাতি পেসার।








