দেড়দিন ধরে যেখানে সাবলীলভাবে রান তুলে পাঁচশ পেরিয়ে ইনিংস ঘোষণা করল নিউজিল্যান্ড, সেই ক্রাইস্টচার্চের ২২ গজে মুমিনুল-লিটনরা নামতেই ব্যাটিং করা খুব ‘কঠিন’ কাজ হয়ে গেল! ২৭ রানে টপঅর্ডারের ৫ ব্যাটারকে হারিয়েছে ধুঁকছে বাংলাদেশ।
হ্যাগলি ওভালে দলীয় ৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারীরা। শূন্য রানে ফেরেন অভিষিক্ত নাঈম শেখ। পরে চার রানের ব্যবধানে টপঅর্ডারের আরও তিন ব্যাটারকে তুলে নেন কিউইরা। তোপ দেগে চলেন দুই পেসার বোল্ট-সাউদি।
চা বিরতির আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসের মাত্র ১১ ওভারে টাইগাররা হারায় ৪ উইকেট, তুলতে পেরেছে ২৭ রান। বিরতি থেকে ফিরেই লিটন দাস সাজঘরে হাঁটা দিলে একই রানে অর্ধেক ব্যাটার ড্রেসিংরুমের চেয়ার গরম করা নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের!
ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে আসা নাঈম ও সাদমান ইসলাম অবিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন দলীয় ৭ রান পর্যন্ত। অভিষেক টেস্ট রানের খাতাই খুলতে পারলেন না বাঁহাতি ব্যাটার।
সাদমান ৭ রান করেছেন। তাকে ল্যাথামের ক্যাচ বানানোর পর নাজমুল হোসেন শান্তকেও (৪) ফেরান বোল্ট। অভিজ্ঞ কিউই পেসার সাউদি অধিনায়ক মুমিনুলকে খুলতে দেননি রানের খাতা।
ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে প্রথম ইনিংসে রানপাহাড়ে চেপে ৬ উইকেটে ৫২১ রানে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। তারা এখনও ৪৯১ রানে এগিয়ে।
সকালে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে ল্যাথাম থেমেছেন ২৫২ রানে। ৫৫২ মিনিট ধরে খেলা ৩৭৩ বলের ইনিংস, ৩৪ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো। মুমিনুলের বলে ইয়াসির নেন ক্যাচ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ২৬৪ রানের ইনিংসটি হয়ে থাকল বাঁহাতি কিউইয়ের টেস্ট সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
হ্যাগলি ওভালে আগেরদিনের ১ উইকেটে ৩৪৯ রানের সাথে ৭৪ যোগ করে সোমবার ৫ উইকেটে ৪২৩ নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝিতে এসে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে ডাকে কিউইরা।
সকালের প্রথম বলে ইবাদতকে চার মেরে তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন কনওয়ে। মিরাজের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়ে ফেরেন। ১৬৬ বলে ১২ চারে ১০৯ রান করে যান। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১২২।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ ২২৪ রানের জুটি গড়েছেন ল্যাথাম ও কনওয়ে। ২০১৪ সালে শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও কেন উইলিয়ামসনের ২৯৭ রানের জুটির রেকর্ড এখনো অক্ষত। ১৯৮৭ সালে ওয়েলিংটনে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জন রাইট এবং এন্ড্রু জোন্স দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেছিলেন ২৪১ রান, যেটি দুইয়ে।
ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকা রস টেলরের উইকেট তুলে নেন ইবাদত। ক্রাইস্টচার্চ হয়ে রইল তার স্যালুটের সাক্ষী। মুহূর্তটি অন্য কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের ব্যাট করতে নামা না লাগলে টেস্টে নিজের সর্বশেষ ইনিংসটি খেলে ফেললেন টেলর।
৩৯ বলে ৪ চারে ২৮ রান করে থামেন টেলর। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয়েছে হেনরি নিকোলসকে। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ড্যারিল মিচেল। ইনিংস ঘোষণার সময় টম ব্লান্ডেল ৬০ বলে ৫৭ ও কাইল জেমিসন ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।








