আট ইনিংস পর ব্যাট খুঁজে পেল ফিফটির ছোঁয়া। অথচ নির্বিকার মুমিনুল হক। ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে ভালো অবস্থানে নিতে এতটাই মনোযোগী ছিলেন এ বাঁহাতি, বেমালুম ভুলে যান ৫০ রানের ব্যক্তিগত ল্যান্ডমার্ক উদযাপনের কথাই।
‘আমি আর মুশফিক ভাই খেলায় এত মনোযোগী ছিলাম যে, ফিফটি হয়েছে এটা ফোকাসে ছিল না। যতক্ষণ খেলা হয়েছে, আউট হবে আউট হবে এরকম ব্যাপার ছিল উইকেটে। আর ব্যাটিংয়ের গভীরে ঢুকে গিয়েছিলাম। কি করতে হবে, কি করতে হবে না, পরিস্থিতির কারণে হয়ত উদযাপন করা আসলে ভুলে গিয়েছি।’
ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন মুমিনুল। তিন অঙ্ক ছুঁয়ে অবশ্য উদযাপন করেছেন নিয়ম মেনেই। সিকান্দার রাজাকে বাউন্ডারি মেরে চঞ্চল পায়ে এগিয়ে যান মাঝমাঠে। কিছুক্ষণ ব্যাট উঁচিয়ে রেখে দ্রুত ২২ গজের সঙ্গী মুশফিকের বুকে বুক মেলান। সেঞ্চুরির উদযাপনে ছিল কিছুটা ভিন্নতা। হয়ে পড়েন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। মুমিনুল জানালেন, সেটি হয়েছে প্রবল আবেগ থেকে।
‘এক সময় আমরা কঠিন পরিস্থিতিতে ছিলাম। একশো করার পর চাপ থেকে বের হয়ে গেলাম। আর একশো করলে একটা আবেগ কাজ করেই। একশো করার পর আমার ভেতরও কাজ করছিল কীভাবে কী করব। খুব আবেগ কাজ করেছে।’
সেঞ্চুরি করেই থেমে থাকেননি মুমিনুল। দেড়শ পার করে ১৬১ রানে আউট হন এ ব্যাটসম্যান। ডাবল সেঞ্চুরির সুযোগ হারান তাতে। নিজের ডাবল না হওয়ায় আক্ষেপ নেই মুমিনুলের। তার আক্ষেপ নিজের উইকেট নিয়ে, অপরাজিত থাকলে বাংলাদেশ থাকতে পারত আরও ভালো অবস্থানে।
‘একটু আফসোস আছে। আমার জন্য একটা উইকেট বেশি পড়ে গিয়েছে। আমি তো আউট হয়েছি, সাথে আরেকটি উইকেট পড়েছে। দলের জন্য শেষের দিকে আরেকটু খেলতে পারলে ভালো হত। এইটুকু আফসোস আছে, আর কোনো আফসোস নেই। এটাই আমাকে একটু পোড়াচ্ছে, খারাপ লাগছে।’







