মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর রোহিঙ্গা জঙ্গিদের কথিত হামলা এবং সরকারি বাহিনীর পাল্টা জবাবি হামলায় ৮৯ জন নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ।
মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তে কড়া নজরদারী করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার রাতে অনুপ্রবেশের সময় বিভিন্ন স্থানে অন্তত এক হাজার রোহিঙ্গাকে বাধা দেয়া হয়। ৭৩ জনকে ফেরত পাঠানো হয় মিয়ানমারে।
মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’ নামে মুসলিম রোহিঙ্গা জঙ্গিদের একটি বিশাল দল বৃহস্পতিবার ভোররাতে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের ৩০টি পুলিশ ও সেনা চৌকিতে পরিকল্পিত হামলা চালায়।
এনডিটিভি জানায়, হামলাকারী ওই দলে ছিল দেড়শ’র বেশি মানুষ। বন্দুক, চাপাতি ও ঘরে তৈরি গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালানো কথিত শতাধিক রোহিঙ্গা জঙ্গির সঙ্গে পুলিশ লড়াই করেছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্রের ছবিও অনলাইনে প্রকাশ করে সরকার।
হামলার জবাবে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চি শুক্রবারই এক বিবৃতির মাধ্যমে জানান, সামরিক বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী পুলিশ রাখাইনদের ওই হামলার জবাবে বিদ্রোহীদের নির্মূল করার জন্য ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ শুরু করেছে।
রাখাইন রাজ্যের মংদাও এলাকা থেকে এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে তাদের গ্রামে হঠাৎ করেই ঢুকে ঘরবাড়িতে আগুন দিতে থাকে এবং প্রথমেই গুলি করে কমপক্ষে ১০ গ্রামবাসীকে হত্যা করে।
ওই সময় আতঙ্কে গ্রামবাসীরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে কক্সবাজার সীমান্তেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নামে। নাফ নদীর সীমান্ত ঘেঁষে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায়।
এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে জনপ্রতিনিধিদের সাথে জেলা প্রশাসনের বৈঠক হয়েছে। মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবি করছেন জনপ্রতিনিধিরা।
নতুন করে সমস্যা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে অং সান সু চির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও মিয়ানমারে এ ধরণের একটি হামরায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষণসহ ব্যাপক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় কমপক্ষে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নেয়।








