মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে নতুন এক সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর সেখানকার মানুষজন নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে।
দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহতরা রামদা জাতীয় অস্ত্র এবং লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই খবর দিয়ে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামে গুলিবর্ষণ করার ঘটনা স্বীকার করে দেশটির সরকার।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবার সৈন্যদের ওপর একদল লোক আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি এবং বল্লম নিয়ে হামলা চালানোয় দুজন সৈন্য এবং ছয়জন হামলাকারী নিহত হওয়ার পর ঐ এলাকায় হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচে’র সরবরাহকৃত স্যাটেলাইট ইমেজ
সরকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একপর্যায়ে প্রায় ৫০০ মানুষ সেনাদলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে, সৈন্যদের সাহায্যার্থে দুটি হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে রোহিঙ্গা গ্রামে গুলি চালানো হয়।
অনলাইনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, আগ্নেয়াস্ত্রসহ সেনাদের উপর হামলার পর দার জিয়াই জার গ্রামের কাছে ২২ জন আক্রমণকারী নিহত হয় এবং অশান্ত এই রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় নিহত হয় আরো ৬ জন।
আল-জাজিরা জানায়, ঘটনাস্থলে প্রবেশে কর্তৃপক্ষ প্রচন্ডভাবে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। যার কারণে সংঘর্ষের মাত্রা ও স্বাধীনভাবে সরকারি রিপোর্ট বা সেনাবাহিনীর নির্যাতনের অভিযোগ যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে রোববার মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে জানায়, নতুন প্রকাশিত ছবিতে ব্যাপকহারে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যাচ্ছে যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।
মিয়ানমার সরকার এসব সংঘর্ষকে হামলাকারীদের খোঁজে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ হিসেবে অভিহিত করছে।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অনেকেই পছন্দ করে না এবং বার্মিজদের অনেকেই তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখে।
গত মাসে বাংলাদেশ সীমান্তের রাখাইন রাজ্যে এক হামলায় ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গাদের উপর নতুন করে ক্র্যাকডাউন শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। এই সময়ে কয়েক ডজন লোককে হত্যা ও বহু লোককে আটক করেছে সেনাবাহিনী। মিয়ানমার সরকারের দাবি, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন বিদেশী সশস্ত্র গ্রুপের সাথে সংযোগ রয়েছে।








