বেসরকারি টেলিভিশন যমুনা টিভির রাজশাহী ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক শিবলী নোমান
‘কমিউনিটি চলচ্চিত্র’ নিয়ে পহেলা বৈশাখের রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস
দিয়েছেন। সেখানে তিনি কমিউনিটি চলচ্চিত্রের আন্দোলনের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে যারা নিভৃতে বসে কাজ করে চলেছেন; তাদের স্বীকৃতির বিষয়টিও নিয়েও কথা বলেছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে লড়াইটা চলছে। বাংলাদেশটাকে শুধু ঢাকার ভেতরে বন্দি করে না রাখার এই লড়াইয়ে বহুযোদ্ধা রণেভঙ্গ দিয়েছেন। কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। কেউ বা মাটি কামড়ে ধরে থেকেছেন। হয়তো নিজের চোখেই দেখেছেন, ঢাকার পাদপ্রদীপের রোশনাইয়ে তার যোগ্যতা দক্ষতার সব চিহ্ন ম্লান হতে হতে হারিয়ে যায়। তারপরেও অনেকেই লড়ছেন এখনো। রাজশাহীতেও সেই লড়াইয়ের সেনানিরা আছেন। নিভৃতে বসে কতো যে কাজ করে চলেছেন, তার খোঁজ কেউ রাখে না। স্বীকৃতি জোটে না। ঢাকাই মিডিয়ায় কাভারেজ আসে না। টাকা জোটে না। তবু তাঁরা লড়ছেন। হয়তো আজ নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য এই লড়াইটা ইতিহাস হয়ে থাকবে। হয়তো এই মানুষগুলোর কাজের হাত ধরেই একদিন ঢাকার ওপর থেকে চাপটা কমবে।
সে যাক গে। ওসব না হয় সময়ই বলুক। আপাতত এই লড়াইয়ের এক অংশীদারের কথা বলতে চাই। ঢাকার বাইরে থেকে কমিউনিটি চলচ্চিত্রের ধারণার সফল প্রয়োগ করে তিনিই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘প্রত্যাবর্তন’ নির্মাণ করেছেন। তার অসংখ্য অসাধারণ সব গল্প নিয়ে ঢাকার পরিচালকেরা দুর্দান্ত সব টেলিভিশন কাহিনি নির্মাণ করেছেন। সেগুলো জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু যখন Ahasan Kabir Liton (আহসান কবীর লিটন) নামের সেই মানুষটির ‘প্রত্যাবর্তন’ ভারতের ‘দাদা সাহেব ফালকে চলচ্চিত্র উৎসব’- এর জন্য মনোনীত হয়, তখন ঢাকার মিডিয়ায় কোনো খবর আসে না! হয়তো কোনো পুরস্কার জিতলে খবরটা হবে। অবশ্য আমরা এমন প্রশ্ন তুলবো না যে, কেন বারবার বাংলাদেশের (ঢাকার অনেক ব্রাত্যজনও এর ভেতরে আছেন) প্রতিভাবান নির্মাতাদের বাইরে থেকে পুরস্কার পেয়ে আসার পর আমাদের মিডিয়াগুলো চিনতে পারছে! এই প্রশ্নও তুলবো না যে, কেন বাইরের আগেই আমাদের দেশের চলচ্চিত্র উৎসবের পুরস্কার জুটছে না তাদের কপালে। যদিও এসবের থোড়াই কেয়ার করে আমরা কাজ করে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি বহু আগেই। তাই অভিনন্দন, প্রত্যাবর্তন টিমকে। পরিচালক-প্রযোজক-পর্দার কুশলীদের পাশাপাশি Kishor Mahmood (কিশোর মাহমুদ) কে তাঁর সিনেমাটোগ্রাফির জন্য আবারো কৃতজ্ঞতা জানাই। আর আমাদের Pavel Rafique (পাভেল রফিক) যে মিউজিক করেছে, গর্ব করে বলতে পারি, কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে করা অনেক ফিল্মেও এমন অসাধারণ কাজ দেখা যাচ্ছে না আজকাল। এই টিমের আরো কাজের অপেক্ষায় রইলাম আগামীতে।







