প্রথমবারের মতো মা হওয়ার বাঁধভাঙ্গা আনন্দ নিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দির একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী খাদিজা আক্তার। অস্ত্রোপচারে মেয়ে সন্তানের মা হয়ে ফিরেছিলেন বাড়িতে। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই নানা রকম শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। মা হওয়ার ৩৫ দিন পর জানা যায় ভয়ানক এবং চমকে যাওয়া এক তথ্য। তার গর্ভে ছিলো জমজ সন্তান। তাদের একটিকে ভূমিষ্ঠ না করিয়েই পেট সেলাই করে দিয়েছে চিকিৎসকরা। সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খাদিজাকে আবার অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে মৃত বাচ্চা বের করে আনা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ, তুলা, ব্লেড, কাচি ইত্যাদি সামগ্রী রেখে দেওয়া বহু ঘটনার সঙ্গে আমরা পরিচিত। কিন্তু পেটে বাচ্চা রেখে সেলাইয়ের ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম। সারাদেশে আলোড়ন তুলে দেওয়া এই ঘটনার পর ওই অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসকসহ অন্যদের তলব করেন হাইকোর্ট। তলবে হাজির হয়ে চিকিৎসক হোসনে আরা বেগম আদালতে বললেন, “আমি কনফিডেন্ট ছিলাম তাই ওই অস্ত্রোপচার করেছি।” জবাবে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী তাকে বলেন, আপনি ‘কনফিডেন্ট’ থাকলেন কিন্তু এতো কিছু হয়ে গেল! আমাদের এত ‘কনফিডেন্ট’ মানুষের চেয়ে দক্ষ চিকিৎসক দরকার। আমরা অবাক হয়ে যাই, এত বড় একটা ভুলের পরেও কিভাবে একজন চিকিৎসক নিজেকে ‘কনফিডেন্ট’ দাবি করে অপরাধের পক্ষে সাফাই গাইতে পারেন? দেশের চিকিৎসাখাতে এত এত উন্নতির পরেও কিভাবে একজন নারীর পেটে জীবিত সন্তান রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়? ওই নারীর গর্ভে সন্তান আসার পর একাধিকবার আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়েছিল। আমাদের প্রশ্ন সেই আলট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদন কি সঠিক ছিল? যদি থাকে তাহলে এতবড় ভুল কিভাবে করলেন সেই চিকিৎসক? আর যদি আলট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদন ঠিক না থাকে, তাহলে লাইফ হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের ওই ক্লিনিক চলছে কি করে? আর একাধিক আলট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদন ভুল হবে; এমন হতে পারে না। এর মানে দাঁড়াচ্ছে ওই নারীর অস্ত্রোপচার দায়িত্ব নিয়ে করা হয়নি। কথিত অনেক চিকিৎসকদের মতো এই চিকিৎসকও তার দায় এড়িয়ে গেছেন। এখন ধরা পড়ার পর কৌশলে নিজেকে ‘কনফিডেন্ট’ দাবি করছেন। যা একটি অপরাধ ঢাকতে আরেকটি অপরাধের শামিল বলেই আমরা মনেকরি। এক্ষেত্রে আদালতের মতো আমরাও বলতে চাই, এত ‘কনফিডেন্ট’ মানুষের চেয়ে দক্ষ চিকিৎসক আমাদের বেশি দরকার।








