এক মৌসুম বিরতি দিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মুকুট ফিরে পেল আবাহনী লিমিটেড। বৃহস্পতিবার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৯৪ রানে হারিয়ে শিরোপা উদযাপনে মাতেন মাশরাফী-নাসিররা। ১৬ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টাইটেল পুনরুদ্ধার করল আকাশী-নীলরা।
এই নিয়ে ১৯ বার ঢাকার লিগে চ্যাম্পিয়ন হল আবাহনী। যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। তারা হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল দুদফায়। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৯ বার টাইটেল জিতে দুইয়ে। আদতে অনেক পেছনেই পড়ে থাকল ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির।
শেষ রাউন্ডে নানা সমীকরণের জটিল অঙ্কে যেতে হয়নি আবাহনীকে। জিতেই শিরোপা নিশ্চিত করেছে জায়ান্টরা। রূপগঞ্জের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়ে শিরোপার পথে এক পা দিয়ে রাখে দলটি। মিরপুরে খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতির কাছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব হেরে যাওয়ায় আবাহনীর শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায়। নিজেদের ম্যাচে হেরে গেলেও খুব বেশি সমস্যা হত না তাদের। কিন্তু বিকেএসপিতে দাপুটে জয়েই শেষটা রাঙাল ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
রূপগঞ্জের হারে রানার্সআপ হয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। দুটি দলের পয়েন্ট সমান ২২ করে হলেও মুখোমুখি দেখায় (হেড-টু-হেড) শেখ জামাল এগিয়ে থাকায় পেয়েছে রানার্সআপের তকমা।
বিকেএসপিতে লিগের শেষ রাউন্ডে নাজমুল হোসেন শান্ত ও নাসির হোসেনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৩৭৪ রানের পুঁজি গড়েছিল আবাহনী। বড় লক্ষ্যে বাটিংয়ে নেমে সমানতালে লড়েছে রূপগঞ্জও। মোহাম্মদ নাঈম (৭০) ও মুশফিকুর রহিমের (৬৭) ফিফটিতে ২০০ রান তুলে ফেলে ৩০.১ ওভারেই, ৪ উইকেট হারিয়ে।
মুশফিক ফেরার পর লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক নাঈম ইসলাম। ২৮০ রানের মাথায় অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে নাঈম ৬৮ বলে ৭৬ করে সানজামুলের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরলে আশাটুকু নিভে যায় দলটির। শূন্য রানে শেষ ৪ উইকেট হারালে ৪২.৪ ওভারে ২৮০ রানে গুটিয়ে যায় রূপগঞ্জ।

নাসির হোসেন, সন্দীপ রায়, সানজামুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট পান মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক ৩৯ উইকেট নিয়ে শেষ করলেন এবারের লিগ। যা কিনা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড।
আবাহনীর ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ১১৩ রান করে মোহাম্মদ শহীদের বলে এলবিডব্লিউ হন। আর ৪ রান করতে পারলেই লিটন দাসের এক মৌসুমে করা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারতে ১৯ বছরের এই তরুণ।
১৬ ম্যাচে চার সেঞ্চুরিতে শান্ত করেছেন ৭৪৯ রান। গত মৌসুমে আবাহনীর হয়ে খেলা লিটন করেছিলেন ৭৫২ রান। লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ অল্পের জন্য হাতছাড়া করেছেন শান্ত।
শান্ত এদিন ১০৭ বলের ইনিংসটি সাজান ১১ চার ও দুই ছক্কায়। এ বাঁহাতির ইনিংস ছাড়িয়ে গেছেন নাসির হোসেন। মাত্র ৯১ বল খেলে করেছেন ১২৯ রান। ১৫ চার ও চার ছক্কার ঝড়ো ইনিংসে রানের চূড়ায় ওঠে আবাহনী। ৫৬ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। পরের পঞ্চাশ রান আসে মাত্র ২৩ বলে। ৭৯ বলে পৌঁছে যান তিন অঙ্কে।

দলের রান তিনশ পার করে দিয়ে থামেন নাসির। তবে রানের চাকা আর থামেনি আবাহনীর। শেষদিকে মাশরাফী চার ছক্কায় ৮ বলে ২৮ রান যোগ করলে ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে আবাহনী তোলে ৩৭৪ রান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করেছিলেন এনামুল হক বিজয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ১২.১ ওভারে ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৯২ রান। ৫১ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে বিজয় আউট হলে ভাঙে জুটি। দুর্দান্ত সূচনার রেশ পুরো ইনিংসে ধরে রাখে আবাহনী।
তিনটি উইকেট নিয়েছেন পারভেজ রসূল। দুটি নিয়েছেন মোহাম্মদ শহীদ। আসিফ হাসান নিয়েছেন একটি উইকেট।
আর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে লিগের শেষ রাউন্ডের আরেক ম্যাচে খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতির কাছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ৪ উইকেটে হেরে যাওয়ায় আবাহনীর শিরোপা-উৎসব হয়ে ওঠে সময়ের ব্যাপার।
মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিং নেমে ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় শেখ জামাল। জবাবে নাজিমউদ্দিন ৬১ ও রাফসান আল মাহমুদের ৪৬ রানের ইনিংসে ৩৬.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায় খেলাঘর।

শেখ জামালের বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু একাই নেন পাঁচ উইকেট। একটি উইকেট নিয়েছেন আল ইমরান।
আগে শিরোপার আশা টিকিয়ে রাখার ম্যাচে ব্যাটিং নেমে ৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে শেখ জামাল। মহাবিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ৪৭ রানের ইনিংস খেলে লড়াকু সংগ্রহ গড়ার আভাস দেন। সোহানের বিদায়ের পর ব্যাট হাতে লড়াই করেন সোহাগ গাজী (২৭), আল ইমরান (২৫)। কিন্তু শেষ ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসলে দুইশর আগেই গুটিয়ে যায় দলটি।
রবিউল ইসলাম রবি, অশোক মানেরিয়া ও মোহাম্মদ সাদ্দাম নেন ২টি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন তানভীর ইসলাম, আব্দুল হালিম ও মাসুম খান।








