চট্টগ্রাম থেকে: শেষ ওভারে রংপুর রাইডার্সের জয়ের জন্য দরকার ১৪। ভাইকিংস অধিনায়ক রঞ্চি বল তুলে দেন তাসকিনের হাতে। অনেক নাটকের পর শ্রীলঙ্কার থিসারা পেরেরা শেষ বলে ছয় হাঁকিয়ে চিটাগং ভাইকিংসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছেন। শেষের নাটকের আগে ১৭ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আলো কাড়েন মাশরাফী। রংপুরের এটি চতুর্থ জয়। তারা শীর্ষ চারে ঢুকে গেছে।
কী ঘটেছিল শেষ ওভারে
ক্রিজে থিসারা পেরেরা এবং নাহিদুল। দ্বিতীয় বলে ছয় হাঁকিয়ে আশাটা বড় করেন পেরেরা। অন্যদিকে নাহিদুল। পরের বল ব্যাটে না নিতে পারলেও রানের জন্যে দৌড়ান। উইকেটরক্ষক বিজয় মাথা ঠাণ্ডা রেখে দূরে দাঁড়িয়ে স্টাম্প ভাঙেন। ফিরতে হয় আগের ম্যাচে ৫৮ করা নাহিদুলকে। তিন বলে দরকার ৬। নতুন ব্যাটসম্যান নাফীস এসেই লফটেড শট খেলতে যেয়ে লংঅনে সৌম্যর হাতে ধরা পড়েন। শেষ বলে দরকার চার। স্ট্রাইকে পেরেরা। ব্যাটসম্যানকে স্কুপ করার প্রস্তুতি নিতে দেখে তাসকিন বডিলাইনে বল মারতে চেষ্টা করেন। পরিণাম ওয়াইড! পরের বল শর্টপিচ। কাউকর্নার দিয়ে ছয়!
মাশরাফী-কাহিনী
আগের দিন শতরানের একটি জুটির পরও রানের চাপে পড়েছিল রংপুর রাইডার্স। আরেকবার সেই চাপে না পড়তে শনিবার ওয়ানডাউনে চলে আসেন মাশরাফী। সঙ্গে গেইলকে একটু নির্ভার করার চেষ্টা। অধিনায়ক তাতে শতভাগ সফল। ১৭ বলে ৪২ করে দলকে জয়ের পথে রেখে যান।
লংঅন, মিডউইকেট, ডিপস্কয়ার লেগ। অফসাইডে লংঅফ, ডিপকাভার। ত্রিশগজের বাইরে মাশরাফীর জন্য এভাবে ফিল্ডিং সাজান ভাইকিংস অধিনায়ক লুক রঞ্চি। মাশরাফীর তাতে থোড়াই কেয়ার। ৪২ রান পর্যন্ত যে তিনটি ছয় মারলেন তার দুটি ওই লংঅনের উপর দিয়ে। একটি ডিপস্কয়ার লেগে। চারটি চার মারলেন গ্যাপ খুঁজে খুঁজে। যেন কপিবুক ব্যাটিংয়ের বাহারি প্রদর্শন।
শেষ ৩০ বলে রংপুরের দরকার ছিল ৪৯। মোহাম্মদ মিথুনের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন আগের ম্যাচে ৫৯ রান করা বোপারা। খুলনার বিপক্ষে ৫৯ করলেও অনেক দেরি করে হাত খোলেন। যার কারণে ম্যাচ ফসকে যায়। সেই তিনি এদিনও শেষ করে যেতে পারলেন না। বিপিএলে ক্রমে বোলার হয়ে ওঠা সৌম্য সরকার ডিপ-মিডউইকেটে ফিল্ডার রেখে শর্টবল করেন। ১৩ বলে ১১ রান তুলে ওই বোপারা পুল করে সেখানেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।
মাশরাফী নামার আগে ম্যাককালাম ২৫ বলে ৩৩ করেন। তিনটি ছয়, একটি চারের মার ছিল তার ইনিংসে।
৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মিথুনকে নিয়ে হাল ধরেন পেরেরা। ১৪ বলে ২৮ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ বের করে নেন।
এদিন আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৭৬ সংগ্রহ করে স্বাগতিক চিটাগং। ৫৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারালেও গত ম্যাচের নায়ক সিকান্দার রাজা ও ভ্যান জিল দলকে পথে রাখেন। ২২ রান করে ফিরে যান সিকান্দার। দলীয় সর্বোচ্চ ৬৮ রান করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন ভ্যান জিল। বাঁহাতি প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানের ৪০ বলের ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও চারটি বিশাল ছক্কার মার।
চিটাগংয়ের ১৭৬ রানের চ্যালেঞ্জিং ইনিংসে আফগানিস্তানের নাজিবুল্লাহ জাদরানের ১৬ বলে ২৫ রানের ভূমিকাও কম নয়। রংপুরের হয়ে পাঁচজন বোলারের প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।








