মাশরাফী, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডব। দীর্ঘদিন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন। এনে দিচ্ছেন অসাধারণ সব সাফল্য। টাইগার ক্রিকেটের জমিনে যে শক্ত মাটি তাদের অবদান তাতে অগ্রণী। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দলেও আছেন সকলে। একসঙ্গে এটিই হয়ত পঞ্চপাণ্ডবের শেষ বিশ্বকাপ! যেটি ভেবে সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা আবেগী হয়ে পড়লেন মুশফিকুর রহিম।
বিশ্বকাপ শেষে ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়ে দিতে পারেন ৩৫ বছর বয়সী মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সংসদ সদস্য হওয়ায় নড়াইলবাসীর সেবায় ব্যস্তসময় কাটাতে হয় তাকে। পাশাপাশি খেলা চালিয়ে গেলেও সেটি আর কতদিন! চার বছর ঘুরে আসা আরেকটি বিশ্বকাপে খেলার কথা চিন্তা করা আপাত দৃষ্টিতে অসম্ভবই বটে।
২০২৩ বিশ্বকাপ খেলা কঠিন হয়ে যেতে পারে তামিম, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদউল্লাহর জন্যও। ফিটনেস আর পারফরম্যান্স সমানতালে এগিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জ থাকবে। সেসময় পর্যন্ত পঞ্চপাণ্ডবের কজন টিকে থাকবেন তা সময়ই বলবে। তবে একসঙ্গে পরের বিশ্বকাপে তাদের দেখা যাবে না সেটি একরকম নিশ্চিত! সেটি ভেবেই মুশফিক এবারের বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে করতে চান বিশেষ কিছু।
‘বিশ্বকাপ সব চাইতে বড় মঞ্চ। এখানে সবাই পারফর্ম করতে চাইবে। মনে হয় এটাই একসাথে (পঞ্চপাণ্ডব) হয়তবা আমাদের শেষ বিশ্বকাপও। মাশরাফী ভাই যদি এরপর আর বিশ্বকাপ খেলতে না পারে, এটাই আমাদের একসঙ্গে শেষ বিশ্বকাপ। আমরা সবাই চাইবো মাশরাফী ভাইয়ের জন্য হলেও যেন বিশেষ কিছু করতে পারি। যেটা কিনা স্মরণীয় হতে পারে। আমার মনে হয় এটা অবশ্যই অনেক বড় সুযোগ। একইসাথে আমাদের সুযোগও অনেক বেশি আছে।’
বিশ্বকাপে সক্ষমতার সবটুকু নিংড়ে দিতে চান মুশফিক। ভাবছেন কীভাবে ব্যাটিং করবেন বিশ্বমঞ্চে, ‘এমন একটি বড় ইভেন্টে সবাই চায় প্রভাব বিস্তার করে খেলতে। আমিও ব্যতিক্রম নই। কন্ডিশন একটা চ্যালেঞ্জ থাকবে, প্রতিপক্ষ একটা চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রচুর দর্শক থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। কারণ চতুর্থবারের মতো খেলতে যাচ্ছি। শেষ তিনটি বিশ্বকাপে রান করেছি, আমার নিজেরও একটা ব্যক্তিগত লক্ষ্য আছে। এই বিশ্বকাপে যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে যেতে পারি।’
‘মনে করি সুযোগ আছে, সামর্থ্যও আছে। সেভাবেই চেষ্টা করবো। একজন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে মনে হয়, আমাদের যারাই টপঅর্ডার আছে তাদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ওয়ানডে সংস্করণে প্রথমসারির ব্যাটসম্যানরা রান করলে অনেক বড় একটা স্কোর বোর্ডে তুলতে পারবেন, প্রায় ৩০০ বা সাড়ে ৩০০। এই জিনিসগুলো আমার মাথায় আছে এবং দল হিসেবে আমরা এগুলো আলোচনা করেছি। যদি সুযোগ থাকে চেষ্টা করবো বাংলাদেশকে দুহাত ভরে দিতে।’ -বিশ্বকাপ ঘিরে নিজের প্রত্যয়ের কথা এভাবেই শোনালেন মুশফিক।








