বিপিএলে সোমবারের প্রথম ম্যাচে এক ক্যারিবীয়র সঙ্গে রাজত্ব করল পাকিস্তানিরা। তবে শোয়েব মালিকের বুড়ো হাড়ের ভেল্কির কাছে ম্লান হয়ে গেল তার অন্য দুই জাতীয় দল সতীর্থ। যাতে ভর করে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
ঢাকার দেয়া ১৩৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৭ রানেই উইকেট হারায় কুমিল্লা। হিসাবের খাতা খোলার আগেই লিটন দাসকে বোল্ড করেন আবু হায়দার রনি। স্কোর বোর্ডে আর ৬ রান যোগ হতেই আউট তামিম ইকবালও। অথচ নারিনের শিকার হওয়ার আগে ৯ বলে ১৮ রান করে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন কুমিল্লা অধিনায়ক।
ধীরগতিতে হলেও ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন ইমরুল কায়েস ও শোয়েব মালিক। কিন্তু ২০ রান করা ইমরুলকে ক্রিজে থিঁতু হতে দেননি সাদ্দাম হোসেন। নিজের ইনিংস লম্বা করতে পারেননি স্বদেশি মারলন স্যামুয়েলসের জায়গায় এদিন দলে আসা ড্যারেন ব্রাভোও। জাতীয় দলের সতীর্থ নারিনের এক ক্লেভার ডেলিভারিতে সাঙ্গাকারার হাতে ধরা পড়ার আগে করেন ১২ রান।
শোয়েব মালিকের বুড়ো হাড়ের ভেলকির সঙ্গে জশ বাটলাটের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের রাস্তাতেই ছিল কুমিল্লা। কিন্তু ১৭ ওভারে এসে দেখা মেলে আমির ঝড়। শুরুতে বিবর্ণ পাকিস্তানি পেসার তিন বলের মধ্যেই ফিরিয়ে দেন বাটলার (১১) ও সাইফউদ্দিনকে (৪)।
কুমিল্লার নিয়মিত উইকেট হারানোর বিপরীতেও অবশ্য ম্যাচে উত্তেজনা ছিল শেষ পর্যন্তই। তবে মালিকের ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিং শেষ করে দেয় ঢাকার সব আশা। দলের দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর ক্রিজে এসেছিলেন, আর মাঠ ছাড়লেন দল জিতিয়ে। তার ৫৩ বলে ৫৪ রানের ইনিংসে চারটি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল একটি বিশাল ওভারবাউন্ডারিও।
ঢাকার হয়ে মোহাম্মদ আমির ছাড়া বল হাতে সফল সুনীল নারিন। ব্যাট হাতে ৭৬ রান করার পর দুটি উইকেটও নেন ক্যারিবীয় তারকা।
এর আগে টস জিতে চলতি আসরে এদিনই প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা। ব্যাট হাতে অচেনাই লাগে ঢাকা ডায়নামাইটসকে। হাসান আলীর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১২৮ রানেই আটকে যায় তারা। অথচ আগের কয়েকটি ম্যাচে বড় সংগ্রহই গড়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের শেষ ম্যাচেও দুই শতাধিক রান করেছিল দলটি। এদিন ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ঢাকার কোমর ভেঙেছেন পাকিস্তানি পেসার হাসান।
ইনিংসের দ্বিতীয় আর নিজের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন হাসান। এভিন লুইস ও মেহেদী মারুফকে বোল্ড করেন তিনি। শুরুতে ধ্বংসস্তুপে পড়লেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৯২ রান তুলে বড় স্কোরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শহিদ আফ্রিদির পরিবর্তে ওপেন করা সুনিল নারিন ও কুমার সাঙ্গাকারা। কিন্তু সাঙ্গার রানআউটের পর তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে ঢাকার ইনিংস।
নারিন ৪৫ বলে ৭৬ ও সাঙ্গার ২৮ ছাড়া ঢাকার আর কোনও ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। ৯ বল বাকি থাকতেই ফুলস্টপ পড়ে ঢাকার ইনিংসে।
প্রথম দুই ওভারে দুটি এবং পরের দেড় ওভারে তিনটি উইকেট নেন হাসান। ঢাকার পাঁচজন ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেছেন তিনি।
হাসান ছাড়াও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দুটি ও রশিদ খান একটি করে উইকেট নেন।







