দলে তারকা খেলোয়াড়ের আধিক্য অনেকটাই কম। বোর্ডে নানারকম ঝামেলা তো আছেই। তার উপর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও খুব একটা ভালো নয়। এরপরও বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে বাতিলের খাতায় ফেলতে চান না নাসের হুসেইন। বরং পাকিস্তানকে ‘মারাত্মক’ দল হিসাবেই দেখছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক।
ইংল্যান্ডের হয়ে ৯৬ টেস্ট ও ৮৮ ওয়ানডে খেলা নাসের পাকপ্যাশনডেটনেটকে সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘অনেক পাকিস্তানি ভক্তরা বলবেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের দলকে অনুসরণ করেছেন এবং অনেকবারই দল তাদের হৃদয় ভেঙেছে। কিন্তু আমি তাদের ভালোবাসি, তাদের ক্রিকেটকেও ভালোবাসি। তাদের ভালোবাসি কারণ, তারা ‘মারাত্মক’ দল। যেদিন পাকিস্তান খেলবে সেদিন বিস্মিত হবেন। এ কারণেই বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে বাতিলের খাতায় ফেলতে পারবেন না।’
সম্প্রতি বেশ কয়েকজন তরুণ ফাস্ট বোলার পেয়েছে পাকিস্তান। তাদের মধ্যে শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাসনাইনের আলাদা করে প্রশংসা করেছেন নাসের। ব্যাটসম্যান বাবর আজম ও ফখর জামানেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।
‘পাকিস্তান সবসময়ই এধরনের খেলোয়াড় বের করে আনে এবং তারা এটা পছন্দ করে। এই বাচ্চাদের সম্পর্কে তেমন কিছু বলার নেই। কারণ, পাকিস্তান নিজ থেকেই এটা করে, তারা তাদের পছন্দ করে বলেই খেলতে এবং তাদের সুযোগ দেয়। তারা কত বয়সী তা কোনো ব্যাপার না, তারা যথেষ্ট ভালো কিনা সে সম্পর্কে বেশি চিন্তা করে। শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাসনাইন যদি ৯০ মাইল গতিতে বল করতে থাকে, তাহলে বিশ্বকাপে উইকেট পাবেই।’
‘মনে করি এটা হাই-স্কোরিং বিশ্বকাপ হবে। যদি সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান অধিনায়ক) তরুণদের হাতে বল দিয়ে বলেন, তোমাকে তিন ওভার দিলাম জস বাটলারকে আউট করতে হবে বা বিরাট কোহলি আমি চাই, বা আমরা এমএস ধোনির উইকেট পেতে চাই, স্টিভেন স্মিথ বা কেন উইলিয়ামসনকে আউট করতে হবে। এটা কোনো ব্যাপার না যে তুমি কত রান দিলে, শুধু আমাকে উইকেট দিতে হবে। এমনটাই এই বিশ্বকাপে হার-জিতের পার্থক্য গড়ে দেবে।’
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের কথা উল্লেখ করে নাসের তুলে আনেন ফখর জামানের প্রসঙ্গ। বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফখর জামানকে দেখেছি, এই ছেলে এমন একজন ব্যাটসম্যান, যিনি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা লড়াই করার মতো বড় পুঁজি এনে দিতে পারেন। বাবর আজমকেও দেখেছি। তিনি পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের সেরা ব্যাটসম্যান, যে দলকে ৩০০ প্লাস স্কোর গড়ায় সহায়তা করতে পারেন। দলকে সাহায্য করতে পারবেন মোহাম্মদ হাফিজ এবং শোয়েব মালিকের মতো অভিজ্ঞরাও।’
বিশ্বকাপে ভালো করতে চাইলে পাকিস্তানের একজন তারকা দরকার। ইংলিশ অধিনায়কের ভাষায়, ‘পাকিস্তান যদি কোহলি, বাটলার, ওয়ার্নার বা উইলিয়ামসনের মতো একজন তরুণ তারকা পেয়ে যায়, তাহলে বিশ্বকাপে তারা অনেক ভালো করবে। আমি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সেই তারকার দিকে তাকিয়ে আছি।’
নাসের হুসেইন সাক্ষাতকারে কথা বলেছেন পাকিস্তান সরফরাজ খানকে নিয়েও। পাকিস্তান অধিনায়কে একজন ফাইটার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। কথা বলেছেন, মোহাম্মদ আমিরের না থাকা নিয়েও।








