রাত পেরোলেই সেই নির্মম দিন। যে দিনটি বাঙালির অবিভাবককে কেড়ে নিয়েছিলো বাঙালির কাছ থেকে। শোকদিবস নিয়ে এবার মুখ খুললেন কবি ও সাংবাদিক আবু হাসান শাহরিয়ার। নিজের শোকের কথা জানালেন ফেসবুক পেজে।
নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, যার মোহন বাঁশির সুরে ভেঙেছিল আমাদের হাজার বছরের ঘুম, জেগে উঠে তাকেই আমরা সহ্য করতে পারিনি মাত্র চারটি বছরও। যিনি ফুসফুস-ভরা সবুজ বাতাসে মুক্তজীবন উপভোগ করার পথ দেখিয়েছিলেন আমাদের, তারই ফুসফুস আমরা গুলিতে ছিন্নভিন্ন করেছি এক হায়েনা-রাত্রিতে। অকৃতজ্ঞ সন্তানদের ছোঁড়া ঐ গুলির শব্দেই বাঙালির ভাগ্যাকাশ থেকে বিদায় নিয়েছে শান্তির পায়রাগুলো। আজও ফেরেনি ওরা।
এরপর তিনি মানুষকে অকৃতজ্ঞ উল্লেখ করে লিখেন, মানুষ অকৃতজ্ঞ হয়। মানুষই অকৃতজ্ঞ হয়। পাখিরা স্নেহ-ভালবাসা মনে রাখে।
সবশেষে তিনি বিকল্প পাদটীকাও দিয়ে দেন,
**বিকল্প-পাদটীকা : এ চিঠি তখনি লেখা, যখন লেনিন বেঁচে ছিল। অথবা মুজিব ছিল ঘরে-ঘরে চর্যার টোটেম। কে আছে শোনেনি সেই রাখালের বজ্রচেরা বাঁশি? সে যদি তর্জনী তোলে, গোরস্থানও দুর্গ হয়ে ওঠে। আজও তার নাম শুনে শোষকের সিংহাসন কাঁপে। সে এক সময় গেছে, মৃত্যুকেও মনে হত বালকের খেলা। বাল্মিকী আসেনি তাই কোনও মহাকাব্য নেই একাত্তর নিয়ে। অকৃতজ্ঞ এই দেশ; পিতাকে নিজের হাতে রক্তে রাঙিয়েছে। স্বপ্নেও ভাবিনি আমি মাকে নিয়ে বেশ্যালয়ে যাব। কবিতার মাঠে নাকি একবারই একাত্তর আসে। ফের যদি আসে তুমি চলে এসো হায়েনা-বিনাশে।
[আবু হাসান শাহরিয়ার/বালিকা আশ্রম : সর্গ ৫১]







