সাউথ আমেরিকার বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তার সখ্যতার কথা প্রায় সবারই জানা। ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো স্যাভেজ ছিলেন তার ‘আত্মার আত্মা’। আর কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ট্রোকেও ডাকতেন ‘দ্বিতীয় বাবা’। এ দুজন দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেও তাদের শিষ্যদের সঙ্গে সমানতালে সম্পর্ক রাখছেন ম্যারাডোনা। এই যেমন ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
মাদুরোর প্রশংসা করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ম্যারাডোনা। সেইসঙ্গে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানোর তীব্র প্রতিবাদ করেন। এমনকি তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিদ্রুপে করতেও ছাড়েননি।
আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি এখন মেক্সিকোর দ্বিতীয় ডিভিশন ক্লাব দোরাদোস দে সিনালোয়ার কোচ। তার ক্লাব গত রোববার তাম্পিকো মাদেরোকে ৩-২ গোলে হারানোর পরে ম্যারাডোনা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই জয় আমি নিকোলাস মাদুরো আর ভেনেজ়ুয়েলার মানুষকে উৎসর্গ করছি। যারা এই মুহূর্তে অসম্ভব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।’
এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তার বিরুদ্ধে ফেডারেশনের একাধিক নৈতিক আচরণ বিধি ভাঙার অভিযোগ ওঠে। মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনের একটি ধারায় বলা আছে, ফুটবলের সঙ্গে জড়িত সবাইকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
তদন্তে ‘দোষী’ প্রমাণিত হলে বিশ্বজয়ী আর্জেন্টাইনকে নিষিদ্ধ অথবা আর্থিক জরিমানা করার কথা জানায় সংস্থাটি। সেই অনুযায়ী ম্যারাডোনাকে অনির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা করা হল। জরিমানার ব্যাপারে এরবেশি কিছু জানায়নি মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন।
ভেনেজুয়েলার বামপন্থী নেতা মাদুরোর সঙ্গে তার খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সেদেশে গিয়ে ম্যারাডোনা বন্ধুর হয়ে নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নিয়েছিলেন। যে নির্বাচনকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে অবৈধ এবং অনৈতিক। এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলা তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।








