জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজিব আহসানকে ‘মাদকসহ’ গ্রেফতারের বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন।
তারা মনে করেন, নব্বই পরবর্তী আদর্শহীন রাজনীতিই বর্তমান ছাত্র রাজনীতিতে এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
ঈদের পরদিন রোববার রাতে পটুয়াখালীর লেবুখালী ফেরীঘাট থেকে রাজিব আহসান ও তার ৫ সঙ্গীকে ৪৫টি ইয়াবা ও এক বোতল মদসহ গ্রেফতারের দাবি করে পুলিশ।
রুহিন হোসেন প্রিন্স চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ছাত্র রাজনীতি আদর্শহীন হয়ে পড়লেও রাজিবের মাদককাণ্ড বিশ্বাসযোগ্য নয় উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান ছাত্র রাজনীতিতে সংকট আছে। আবার অতীতে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে অনেকেই সন্ত্রাসীদের ছাত্র রাজনীতির ক্ষমতায় বসিয়েছে।
‘তবে এতো কিছুর পরও আমি এটি বিশ্বাস করি না বা করতে চাই না রাজিব মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। সেই সাথে আমি এটাও আশা করবো কেউ যেনো রাজীবকে প্রতিহিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার না করে’, বলেন তিনি।
রাজেকুজ্জামান রতন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের বাসা তল্লাসির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও বেশি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিতে হবে। তা নাহলে সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গাটা নষ্ট হয়ে যাবে।
‘এই আওয়ামী লীগ সরকারে সময়েই মওদুদের বাড়ি তল্লাসি করে মদ থেকে শুরু করে কত কি পাওয়া গেলো। কিন্তু চার্জশিটে কিছুই দেখা গেলো না। সরকারকে হীন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমার আশংকা রাজিবের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটতে পারে’, বলেন তিনি।
যে ছাত্রদের হাত ধরেই ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূচনা। সেই ছাত্ররাই এখন অস্থিতিশীল রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, নীতি হীনতা, সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার অভিপ্রায়, সেই সাথে দায়বদ্ধতার অভাবেই বর্তমান ছাত্র রাজনীতির এই অবস্থা।
রাজেকুজ্জামান বলেন, নব্বই পরবর্তী সরকারগুলোর মধ্যে মামলা-হামলা করে প্রতিপক্ষকে দমন করার মনোভাব দেখা যায়। যা বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। এতে করে গণতান্ত্রিক চেতনা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সেই সাথে ছাত্র রাজনীতিকে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করেছে।
আগের দিনের ছাত্ররাজনীতির সাথে বর্তমান ছাত্র রাজনীতির পার্থক্য তুলে ধরে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আগের দিনে আমরা যখন ছাত্র আন্দোলন করতাম; তখন আমাদের মধ্যে কোনো প্রকার লোভ কাজ করতো না। আমরা আদর্শ থেকে রাজনীতি করতাম। আর এখনকার ছাত্রনেতারা এখন অল্পতেই বাড়ি গাড়ির মালিক হওয়াতো দুরের কথা এমপি-মন্ত্রীও হয়ে যাচ্ছেন। তাদের ভেতর এখন নগদ প্রাপ্তির বিষয়টি কাজ করছে।







