বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কক্সবাজারের মহেশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে। এর উৎপাদন ক্ষমতা হবে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।
বুধবার এ বিষয়ে মালেশিয়ার পুত্রজায়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) মালয়েশিয়ার তেনেগা নাসিনল বারহেড ও পাওয়ারটেক এনার্জির সাথে চুক্তি করেছে। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী এখন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একটি যৌথ কোম্পানি গঠন করবে। সেই কোম্পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরী উপদেষ্টা নিয়োগ, আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ, ভূমি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্পের জ্বালানি হিসেবে কয়লা কেনা, যন্ত্র পরিবহন ও সরবরাহ, আন্তর্জাতিক ঋণদানকারী সংস্থা বা ব্যাংক থেকে ঋণ সংগ্রহ করবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রায় দুই দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার খরচ ধরা হয়েছে।
চুক্তিতে পিডিবির চেয়ারম্যান শামসুল হাসান মিয়া এবং মালয়েশিয়ার তেনেগা নাসিনল বারহেডের প্রেসিডেন্ট দাতুক সেরি ইর আজমান মোহম্মদ ও পাওয়ারটেক এনার্জির পরিচালক দাতু মার্ক উইলিয়াম লিং লী মেং সই করেন।
নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা হবে। বাংলাদেশে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট ৯২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান পাওয়ারটেক কাজ করছে।
গত ৩০ মে এই চুক্তির খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা কমিটি। এর আগে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত এবং চীনের সঙ্গে যৌথ কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে রামপালে এবং পায়রায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ জ্বালানিতে সহায়তা দেয়া হবে:
মালেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নজিব রাজাক বাংলাদেশের বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আজ বুধবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে পুত্রজায়ায় তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
এ সময় তারা পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বুধবার বিদ্যুৎ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানানো হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ভ্রাতৃপ্রতীম দু-দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বাড়ানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে।
প্রতিমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে ১১ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করলেও বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নেয়াসহ বাংলাদেশের টেক্সটাইল পণ্য, ঔষধ, সবজি, ও সামুদ্রিক মাছ আমদানি বাড়ানোর অনুরোধ করেন।
এ সময় বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম, বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. শামসুল হাসান মিয়া ও মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।








