ভয়, দুশ্চিন্তা দুটোই ছিল। আদালতের রায় পক্ষে না এলে অবৈধ হয়ে যেত বিসিবির নির্বাচিত বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। নাজমুল হাসান পাপনের কাছে সেটির চেয়েও বড় ব্যাপার, বিসিবি নির্বাচনে খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আর থাকতো না। হয়ে যেত আইসিসির নিয়ম পরিপন্থী। এমন কিছুই হয়নি। বরং বেড়েছে বিসিবির সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা। তাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বোর্ড সভাপতি।
বিসিবির সংশোধিত গঠনতন্ত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে বুধবার আপিল নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এতে বিসিবির ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনে করতে পারবে নির্বাচন।
আদালতের রায়ের পরপরই বিসিবি কার্যালয়ে জরুরী বৈঠকে বসেন নাজমুল হাসান। পরে সংবাদ মাধ্যমকে জানান স্বস্তির কথা, ‘মামলা যেহেতু খারিজ হয়ে গেছে, সেটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ভালো একটা খবর। ভয় ছিল মনের মাঝে, ওরা (এনএসসি) গঠনতন্ত্রে যে পরিবর্তন করেছিল সেটাতে যদি নির্বাচন করতে হতো, তখন ওদের চাওয়া মতই সব করতে হত। তখন আমাদের একটা ঝামেলা হতো। আমাদের এই মেয়াদ নিয়ে বৈধতার একটা প্রশ্ন আসতো।’
বৈধতার শঙ্কার সঙ্গে বোর্ড সভাপতির মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিও, ‘আমার আসল চিন্তা ছিল খেলোয়াড়দের ব্যাপারটায়। তাদের একটা কোটা ছিল, রায় পক্ষে না এলে সেটিও বাদ দেওয়া হতো। খেলোয়াড় আসার সুযোগ ছিল না। অথচ অন্যান্য স্পোর্টস থেকে খেলোয়াড় আসতে পারবে, এটা কখনও আইসিসি মানতো না। আইসিসি যদি না মানতো তখন আমাদের কী অবস্থা হতো? এটা নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম। যেহেতু ওই ধরনের কিছু আসেনি তাই আমাদের জন্য, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ভালো।’
শঙ্কার সেই মেঘ সরে যাওয়ায় এখন আরও শক্তিশালী হচ্ছে বিসিবি। পাবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, ‘আমি যতটুকু শুনেছি, আমরা এসেছি সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। এখানে এখন কারও কোনও হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ ভুল। আমরা যেটা বুঝতে পেরেছি এটা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। বরং এখন যে জিনিশটা যোগ হচ্ছে, যদি গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় আমরা সেটাও করাতে পারবো। বাইরের কোনও হস্তক্ষেপ আসবে না। সবচেয়ে বড় কথা মামলাটা খারিজ হয়েছে।’
ঘটনার শুরু ২০১২ সালে। বিসিবির বিশেষ সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের মতামত নিয়ে এনএসসি’র কাছে গঠনতন্ত্র পাঠানো হয়েছিল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠনতন্ত্র যাচাই-বাছাই করে সংশোধন করে বিসিবিতে ফেরত পাঠায়। পরে বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এনএসসি। বিষয়টি নিয়ে রিট করা হয়। সেই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর আদালত রুল জারি করেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার সেই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন আদালত।







