একজন তামিম আলো জ্বালিয়ে দিলে, সেই আলোটা অন্য কাউকে বয়ে নিয়ে যেতে হয়। টস হেরে আগে ব্যাট করে ৩০৫ রান করার দিনে প্রথম কাজটা হলো। দ্বিতীয়টি হলো না। বল হাতে কেউ তামিমের জ্বালানো আলো ধরে রাখতে পারলেন না। পরিণামে শুধু ৮ উইকেটের মনপোড়ানো একটি হারই দেখতে হলো না, একটি সুযোগেরও অপমৃত্যু হলো।
তামিম তার জীবনের কোন সেঞ্চুরিটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিবেন, সেটা তার বিষয়। কিন্তু ক্রিকেটীয় বৈচিত্র্য বলছে তার এই ১২৮ রান অনেক দামে কেনা। সেটা ম্যাচ কিংবা ম্যাচের আগের কয়েকদিনের পরিস্থিতি বিবেচনায়। প্রস্তুতি ম্যাচে ৮৪তে অলআউট হওয়ার মতো একটি নজির পেছনে ফেলে দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তাতে প্রশংসা করতেই হয়। আইসিসির টুর্নামেন্ট বলে উইকেট একটু সাদামাটা হবে, সেটা অনুমিত ছিল। তাই বলে এত সাদামাটা!
বাংলাদেশ যেখানে একটি শত রানের (১৬৬) জুটি পেয়েছে, সেখানে ইংল্যান্ডের দুটি। এই দুই জুটির সামনে বাংলাদেশি বোলারদের যারপরনাই অসহায় মনে হয়েছে। রুবেল সহজাত সুইং সামনে তো আনতেই পারেননি, বলে খুব একটা বাউন্সও ছিল না। মোস্তাফিজ কয়েকটি কাটার মারলেও ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা সতর্ক থেকে বেরিয়ে গেছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ১৩ ম্যাচে প্রতিপক্ষ দল আগে বল করে গড়ে ২৯১ করেছে। ইংরেজরা সেটা চেজ করে আবার দশটিতে জিতেছে! বৃহস্পতিবার ওভালেরটি মিলিয়ে ১১টি।
মাশরাফি ১০ ওভার বল করে ৫৬ রান দিয়ে এক উইকেট নেন। মোস্তাফিজ ৯ ওভারে ৫১ দিয়ে উইকেট নেই। রুবেল ১০ ওভারে ৬৪ দিয়ে উইকেটহীন। স্পিনে সবেধন নীলমণি সাকিব ৮ ওভারে ৬২ দেন। তারও উইকেট নেই। যে ম্যাচে চারজন প্রধান বোলার এমন হাত ঘোরান সে ম্যাচ ঘিরে আর বলার কিছু থাকে না। আশাও করা যায় না। হয়েছেও তাই!
এর আগের গল্পে তামিমের জায়গা যতটুকু, ঠিক ততটুকু মুশফিকুর রহিমের। ১০১ মিনিট ক্রিজে ছিলেন। ৭২টি বল খেলেন। দলকে এনে দেন ৭৯টি মূল্যবান রান।
চিন্তা ছিল প্রথম কয়েক ওভার নিয়ে। তামিম-সৌম্য সেটা নিরাপদেই পার করেন। ৫৬ রানের জুটি গড়ে স্টকসের শর্ট বলে সৌম্য (২৮) ফিরে গেলে ইমরুল মাঠে নামেন। ব্যাটিংয়ে শক্তি বাড়াতেই ইমরুলকে একাদশে রাখা হয়। সেই ইমরুল (১৯) খুব একটা ভালো করতে পারেননি। প্লাঙ্কেটকে উড়িয়ে মারতে যেয়ে মিডঅনে ধরা পড়ে যান। মার্ক উড দারুণ ক্যাচ নেন।
ইমরুল ফিরে গেলে মুশফিক এসে তামিমকে সঙ্গ দেন। ২৮ ওভার শেষে এক পর্যায়ে স্কোরবোর্ডে রান ছিল ১৫০। তামিম ১২৪ বল খেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজের প্রথম শতক হাঁকান। সেঞ্চুরির পরও তাড়াহুড়া করেননি। আরও ২৮টি রান যোগ করেন। প্লাঙ্কেটের বলে বাটলারের হাতে যখন ধরা পড়েন, তখন মুশফিকের সঙ্গে তার জুটি ১৬৬ রানের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তৃতীয় উইকেটে এটি সর্বোচ্চ রান। এর আগে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছিল কুমার সাঙ্গাকারা ও উপুল থারাঙ্গার দখলে। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার এই দুই তারকা ব্যাটসম্যান ১৬৫ রানের জুটি গড়েছিলেন।
তামিম ফিরতেই মুশফিক (৭৯) নড়বড়ে হয়ে যান। ঠিক পরের বলে বড় শট খেলতে যেয়ে লংঅফে ধরা পড়েন।
শেষ দিকে সাকিব (১০) রান বাড়াতে ব্যর্থ হন। ৪৭তম ওভারের চতুর্থ বলে ফিরে যান তিনি। সাব্বির ১৫ বলে করেন ২৪। ৪৯ ওভার শেষে ৩০০তে পা রাখে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে আসে ৫।
এর আগের গল্পটা নিস্তরঙ্গ বোলিংয়ের; যাতে ম্লন হয়েছে তামিম তরঙ্গ!








