বিশ্ব জুড়ে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালিয়ে হামলাকারীরা মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছে।
শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ৯৯টি দেশে এই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) তৈরি একটি সফটওয়্যার টুল দিয়েই হামলাটি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলাকারীরা ‘র্যানসামওয়্যার’ জাতীয় এই টুল ছড়িয়ে হাজারো কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। এরপর সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীদের ফিরিয়ে দিতে ডিজিটাল মুদ্রা বা ‘বিটকয়েনের’ মাধ্যমে তারা কম্পিউটার প্রতি ৩০০ ডলার করে দাবি করছে। ‘ওয়ানাক্রাই’সহ বিভিন্ন নামে ছড়িয়ে পড়ে কম্পিউটার দখল করছে এই র্যানসামওয়্যার।
গত এপ্রিলে ‘শ্যাডো ব্রোকারস’ নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ এই টুলগুলো হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করে অনলাইনে ছেড়ে দেয়ার দাবি করে। এর আগে মার্চেই এ জাতীয় টুল থেকে সুরক্ষার উদ্দেশ্যে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট একটি প্যাচ বা সিকিউরিটি আপডেট প্রকাশ করেছিল। কিন্তু এরপরও বহু কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলোতে সিকিউরিটি প্যাচ আপডেট হয়নি।
বিবিসি জানায়, যে ৯৯টি দেশের কম্পিউটার এই হামলা শিকার হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, স্পেন, ইতালি আর তাইওয়ান।
এসব দেশের স্বাস্থ্য, টেলিকম বা যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত এই হামলার শিকার হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় ধরণের হামলার মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস। দেশটির হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে রাখতে হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যাভাস্টের হিসেব অনুসারে, এখন পর্যন্ত ১ লাখের বেশি কম্পিউটারে তারা র্যানসামওয়্যারের আক্রমণ হতে দেখেছে। সংক্রমণের পরিসর ব্যাপক বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাভাস্টের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার এবং ম্যালওয়্যার গবেষক জ্যাকাব ক্রাউস্টেক। আক্রমণের ৫৭ শতাংশই রাশিয়ায় বলেও টুইটবার্তায় জানান তিনি।
এই আক্রমণ থেকে বাঁচতে অ্যাভাস্ট নিজ থেকেই বিনামূল্যে একটি সিকিউরিটি প্যাচ প্রকাশ করেছে।
‘র্যানসামওয়্যার’ হচ্ছে এমন এক ধরণের ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস, যা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং ব্যবহারকারীকে প্রবেশে বাধা দেয়। অনেক সময় হার্ডডিস্কের অংশ বা ফাইল পাসওয়ার্ড দিয়ে অবোধ্য করে ফেলে। পরে ওই কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ফেরত দেয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করা হয়।
‘ট্রোজান ভাইরাসের’ মতো এ ধরণের ম্যালওয্যার এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।








