করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯৯ জনের মৃত্যুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৯২ জন। এই সময়ে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬৫১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গতকাল সর্বোচ্চ শনাক্ত ছিল ১১ হাজার ৫২৫ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ।
উপরের তথ্যগুলো দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ দিক জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এবছর এপ্রিল মাসের আগেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনার এতো প্রকোপ ছিল না। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত সংক্রামক ওই ভ্যারিয়েন্টের কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই’ই বাড়ছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৯০-এ।
সারাদেশে তাণ্ডব চালানো করোনাভাইরাস রোধে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধ কোনোভাবেই মানানো যাচ্ছে না। বহু জনগণ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাইরে বের হওয়ায় লকডাউনের সপ্তম দিনে শুধু রাজধানীতেই এক হাজার ৭৭ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে নগদ অর্থ জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগ ৯৩৭টি গাড়িকে ২১ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। সারাদেশের তথ্য একসাথে করলে এর চিত্র আরো বহুগুণ বেড়ে যাবে নি:সন্দেহে। সেইসঙ্গে করোনা নিয়ে আমাদের দায়িত্বহীনতা ও নিয়ম না মানার প্রবণতাকে নগ্নভাবে উপস্থাপন করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসের নতুন এক ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আবার দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পর এটি বেশ চিন্তায় ফেলেছে বিজ্ঞানীদের। করোনার এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের নাম ‘ল্যামডা’। গত বছরের ডিসেম্বরে পেরুতে প্রথম করোনার এই ভ্যারিয়েন্টটির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে পৃথিবীর প্রায় ৩০টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ল্যামডা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাবধানতা নীতির মতো আমাদের দেশেও আন্তর্জাতিক আকাশ ও সড়কপথের উপরে বিধি নিষেধ আছে। তারপরেও এপর্যন্ত যতোগুলো ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বে দেখা দিয়েছে, তার সবগুলোই বাংলাদেশে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালিয়েছে। গত একবছরের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান করোনা পরিস্থিতির বিচারে আমাদের সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি।
কিছুদিন আগেও প্রতিবেশী দেশ ভারতে মারাত্মক মৃত্যুর চিত্র আমাদের ব্যাথিত করেছে। হাসপাতালের বেড ও অক্সিজেন নিয়ে সেখানে হাহাকারও ছিল উল্লেখ করার মতো। গত একসপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাতেও মৃত্যুর মিছিল চলছে, সেইসঙ্গে বেড ও অক্সিজেনের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গেলবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারপরেও কেনো এখনও সেগুলো স্থাপন করা যায়নি তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। বেশি মাত্রায় ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করে থামাতে হবে মৃত্যুর মিছিল, আর কঠোর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংক্রমণ কমাতে হবে।







