অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার সুযোগ না হলেও সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছিলেন হাসান মুরাদ। এ বাঁহাতি স্পিনারের বিশ্বকাপ জয়ের ঘোর না কাটতেই আরেকটি স্বপ্নপূরণ হলো বুধবার দুপুরে। নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি স্পিনার, বাংলাদেশের বর্তমান স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরির অধীনে কাজ করার সুযোগ হলো বিকেএসপিতে পড়ুয়া ১৮ বছরের এ তরুণের।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে মুরাদ চ্যানেল আই অনলাইনকে শুনিয়েছেন ভেট্টরির সঙ্গে কাজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা, ‘সে (ভেট্টরি) তো একজন লিজেন্ড। তার সঙ্গে একটি সেশন করতে পারা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। বোলিংয়ে বৈচিত্র্য নিয়ে বেশি কথা বলেছেন। ম্যাচে কীভাবে ফিল্ডিং সাজাতে হবে সেটি সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছেন। ছোট ছোট আরও অনেক বিষয়ই ছিল।’
ভেট্টরি বাংলাদেশের কোচ হয়ে আসার পর থেকেই মুরাদের স্বপ্ন দেখার শুরু। যদি একটা-দুইটা সেশন করার সুযোগ মেলে…সে সুযোগটি চলে এলো দ্রুতই; মুমিনুল হকের দল জিম্বাবুয়েকে চতুর্থ দিনেই মিরপুর টেস্ট হারিয়ে দেয়ায়। বুধবার ছিল টেস্টের পঞ্চম দিন। কিন্তু ম্যাচ শেষ আগের দিন দুপুরেই।
বিসিবি জাতীয় দলের স্পিন কোচকে কাজে লাগিয়েছে কয়েকজন তরুণ স্পিনারকে নিয়ে সেশন আয়োজন করে। ভেট্টরির প্রতিটি কর্মদিবসের পেছনে বিসিবির ব্যয় যে দুই লাখ টাকারও বেশি। সেটি উসুল হয়েছে তরুণদের নিয়ে কাজের মাধ্যমে। দুই ঘণ্টার সেশনে ভেট্টরি তাদের দিয়েছেন খুটিনাটি অনেক পরামর্শ।

মুরাদ ছাড়াও ভেট্টরির ক্লাসে ছিলেন টি-টুয়েন্টি দলের লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) স্কোয়াডের বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম। ইনডোরের পাশের আউটার মাঠের নেটে শুরুতেই মুরাদকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ভেট্টরি। পেছন থেকে মোবাইলে ভিডিও করতে থাকেন মুরাদের একেকটি ডেলিভারি। পাশের নেটে বোলিং করে যাচ্ছিলেন আমিনুল ও তানভির। পরে তাদের ডেলিভারিও দেখেন খুটিয়ে খুটিয়ে।
আমিনুল টি-টুয়েন্টি দলের নিয়মিত সদস্য হওয়ায় তাকে নিয়ে আগেও কাজ করেছেন ভেট্টরি। মুরাদ ও তানভিরকে দেখা এই প্রথম। অনুশীলন শেষে ভেট্টরি বলেন, ‘ওরা আজ ভালো বোলিং করেছে। তবে নেটে বল করা আর ম্যাচে বল করা একদমই ভিন্ন। ওদের সঙ্গে কাজ করার পর ম্যাচে দেখতে হবে ওরা কেমন করে। এটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাইজুল, মিরাজ, নাঈমদের ক্ষেত্রে সেটিই আমি উপভোগ করি, যা শেখাচ্ছি তা কতটা ম্যাচে করতে পারে। আপাতত আমি এই ছেলেদের সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করছি, ওদের স্কিল ও শক্তির জায়গা বোঝার চেষ্টা করছি।’

মুরাদের স্টক বোলিং ভালো লেগেছে ভেট্টরির। এ স্পিনার জানান, ভ্যারিয়েশন নিয়েই বেশি কাজ করতে বলেছেন। আর্ম বল, টপ স্পিন এসব নিয়ে চর্চাটা চালিয়ে যেতে বলেছেন জাতীয় দলের কোচ। ম্যাচে মানসিক অবস্থা কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কেও কথা বলেছেন ভেট্টরি।
বাঁহাতি স্পিনে মুরাদ একদিন সাকিব আল হাসানের মতো হবে। এমন বিশ্বাসের কথা অনেক আগেই শুনিয়েছেন বিকেএসপির কোচ মাসুদ হাসান। তার ছাত্র এগিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাবনার পথে থেকেই।
বিকেএসপির প্রথমবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নেমেই মুরাদ ১৩ ম্যাচে নেন ২২ উইকেট। সাউথ আফ্রিকায় যুব বিশ্বকাপে খেলেছেন দুই ম্যাচ। ১৯ ওভারে ৬০ রান খরচায় নিয়েছেন দুই উইকেট। টানা এক জায়গায় বল করে ব্যাটসম্যানদের রানে আটকে রাখাই তার বোলিংয়ের বড় বিশেষত্ব।







