দেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকগুলোর ভুয়া খবরের স্ক্রিনশটের হোতাদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে খুব দ্রুতই তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে।
প্রধান বিচারপতির দেশত্যাগের ঘটনায় শনিবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রথম আলো-ডেইলি স্টার সমকালসহ আরও কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার ভুয়া খবরের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে ভাইরাল হয়।
ভুয়া খবরের যে স্ক্রিনশট চ্যানেল আই অনলাইনের হাতে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে পত্রিকাগুলোর লে আউট বা বাহ্যিক অবকাঠামো ঠিক রেখে তাতে ইচ্ছে মতো সংবাদ এবং সংবাদ শিরোনাম এডিট করে পরিবেশন করা হয়েছে। দেখলে মনে হবে যেন প্রকাশিত পত্রিকাতেই এমন খবর ছাপা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাইবার ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: বহুল প্রচারিত দৈনিকের ভুয়া স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আমাদের নজরে এসেছে। আমাদের টিম ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে।
কোন গোষ্ঠী কাউকে দিয়ে এসব উদ্দেশ্যমূলকভাবে করাচ্ছেন কিনা জানাতে চাইলে আলিমুজ্জামান বলেন: আমরা সব বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি, যেহেতু আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তাই এখন সব কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে যারা এসব কাজ করছে তাদেরকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বহুল প্রচারিত দৈনিকগুলোর ভুয়া স্ক্রিনশটে পাঠকদের বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন সাইবার ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান।
দেশে ক্রমেই বাড়ছে সাইবার অপরাধের মামলা ও অভিযোগ। এ সংক্রান্ত মামলার অধিকাংশ হয়েছে ৫৭ ধারায়। পরের বছর ৩২টি ও ২০১৫ সালে বিচারের জন্য যায় ১৫২টি মামলা। ২০১৬ সালে যায় দেড় শতাধিক মামলা। আরও প্রায় তিনশ’ মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাইবার ক্রাইমের অভিযোগের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের অভিযোগ, এর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে ভুয়া খবরের স্ক্রিনশট।
জানা যায় সাইবার ক্রাইমের অভিযোগে যে সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়ছে মামলা হচ্ছে তার ৩০ শতাংশ। বাকি ৭০ শতাংশ ঘটনায় সামাজিকভাবে বা বাদী-বিবাদী সমঝোতা হওয়ায় মামলা হচ্ছে না।







