চট্টগ্রাম থেকে: জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের সামনে দাঁড়িয়ে নাসির হোসেন যখন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন, পাশ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিলেন মুমিনুল হক। দুষ্টুমি করে বলেই ফেললেন, রান বেশি করলাম আমি আর কথা বলছেন নাসিরের সঙ্গে। মুমিনুলের মজা করার কারণও আছে। দিনের সেরা স্কোরার তিনি। খেলেছেন ৭৩ রানের ঝলমলে ইনিংস। সেখানে নাসির করেছেন ৬২। এরপরও নাসিরেই আগ্রহ সবার।
মুমিনুল তো টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্যই। অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও তার জায়গা পাকা না থাকার কারণ নেই। আর নাসির, দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাত্য। রঙিন পোশাকেই সুযোগ মেলে না, সাদা পোশাক তো দূরের স্বপ্ন। সেই নাসির এমন একটি ইনিংস খেলে নির্বাচকদের কী বার্তা দিলেন? ওসব বার্তা-টার্তা কিছু না, ভাল খেললে দলে আগের জায়গায় চলে আসব, ব্যাস- সোজাসাপ্টা ভাবনা এই অলরাউন্ডারের। সঙ্গে জানালেন উপভোগ করে যাওয়ার কথাও।
অনুশীলন ম্যাচের প্রথম দিনে জ্বলেছেন বোলাররা। দ্বিতীয় দিনটা ছিল ব্যাটসম্যানদের। তাতে নাসিরের ফিফটি। মুমিনুল যখন দুষ্টুমি করছিলেন, সবার মুখে তখন হাসি। হাসি মুমিনুলের মুখেও। সেটা নিজের জন্য, নাসির রান করাতেও। তবে দুজনের চ্যালেঞ্জটা আলাদা। একজন জায়গা ধরে রাখতে সংগ্রাম করছেন, আর একজন দলে ফিরতে।
ফিফটির পরও অবশ্য নাসিরের আক্ষেপ থাকল। সেটা ইনিংস বড় করতে না পারায়, ‘আসলে এটা প্র্যাকটিস ম্যাচ, অনেক দিন ধরে কোন টেস্ট বা ফোর-ডে ম্যাচ খেলি না। আমার চেষ্টা ছিল ইনিংসটা যতদূর সম্ভব যেন বড় করা যায়, হয়তো আরও বড় করতে পারতাম, দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়নি।’
বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে নাসিরের বড় বড় ইনিংস আছে। সবশেষ জাতীয় লিগে দেখা পেয়েছেন প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির। সেই ম্যাচ দেখা হয়নি জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের। সিলেটের বিপক্ষে রংপুরের হয়ে নাসির যেদিন ২০০ রানের ইনিংস খেলেন, বাংলাদেশের প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে তখন ছুটিতে অস্ট্রেলিয়ায়। ওই ইনিংসটির ভিডিও ফুটেজ বিসিবির কাছে চেয়েছিলেন কোচ। হয়তো পরখ করতেই। কিন্তু ওই ম্যাচের ফুটজ কোচের কাছে পৌঁছে দিতে পারেনি বিসিবি।
এবার সামনে থেকেই কোচ দেখলেন, বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে নাসিরের ব্যাটিং। সন্তুষ্ট হতেই পারেন কোচ। ইনিংসটা অত বড় না হলে খেলার ধরন ছিল সাবলীল। শারীরিক ভাষা মুগ্ধতা ছড়ানোর মতো। ৬২ করতে খেলেছেন ৯২ বল। উইকেটে থেকেছেন লম্বা সময়।

অনুশীলন ম্যাচে ভাল খেলে টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারটি মাথায় ছিল নাসিরের? ‘সত্যি কথা বললে, আমার মাথায় সেটা নেই। প্র্যাকটিস ম্যাচে ভালো খেলে ফিরতে হবে এরকম কোনও কিছু আমার মাথায় ছিল না। সেঞ্চুরি হলে অবশ্য ভালো লাগত।’
এক সময় বাংলাদেশ দলে তিন ফরম্যাটেই খেলতেন নাসির। এখন অধিকাংশ সময়ই দলের বাইরে থাকতে হয়। তার জায়গায় দলের পাকাপোক্ত সদস্য এখন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আর সেটা সব ফরম্যাটেই। দলে টিকে থাকতে কিংবা ফিরে আসতে করতে হচ্ছে প্রতিযোগিতা। এটিকে অবশ্য ইতিবাচক ভাবেই দেখেন নাসির। ভালো খেলে আগের অবস্থানে ফিরে আসবেন, আছে সেই বিশ্বাসও।
‘প্রতিযোগিতা থাকা ভাল, এটি থাকলে মনে হবে আমার হয়তো কোন ঘাটতি আছে বা উন্নতি করতে হবে। এখন পাইপলাইনে অনেক খেলোয়াড়, আগে যা ছিল না; তার মানে আমরা উন্নতি করছি। আর সবাই এখন চেষ্টা করছে পরিশ্রম করার। আমি মানসিকভাবে শক্ত আছি। জানি, ভালো খেললে আগের জায়গায় চলে আসব।’
বিস্তারিত ভিডিওতে:







