‘আসলে ব্যাপারটা স্বার্থপরের মতো হয়ে যায়। যে দলের জয়ে আমাদের লাভ হয়, তাকেই সমর্থন করব।’ কথাটা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। বাংলাদেশ অলরাউন্ডার ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে বললেন এভাবেই। লাভ বলতে এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না ইংল্যান্ডের হারই চাইবে বাংলাদেশ দল ও সমর্থকরা।
এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই একদিন পর। যে ম্যাচে জিততেই হবে টিম টাইগার্সকে। নিজেদের পরের দু-ম্যাচে জিতে যাতে সেরা চারে যাওয়া যায়, সেজন্য স্বাগতিকদের হেরে থাকাটাও জরুরী। রোববার এ মাঠেই ভারত খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ম্যাচে ভারত জিতলে সেমির রোডম্যাপে লাভ যে বাংলাদেশের, তাই সমর্থনে নেই কোনো রাখঢাক!
তবে মাঠের পরিস্থিতি হতে পারে ভিন্ন। উড়তে থাকা ভারত বনাম তেঁতে থাকা ইংল্যান্ড। এক সপ্তাহ আগেও অনেকেই ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল নিশ্চিত ধরে রেখেছিল। কিন্তু টানা দুটি হারে দৃশ্যপট বদলে যায়। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামবে ইংল্যান্ড। হেরে গেলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা। শক্তিশালী কোহলির দলের বিপক্ষে মরগানের দল তাই মরিয়াই থাকবে জিততে।
ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জিতে সেমিফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত ভারতের। শেষ তিন ম্যাচ থেকে একটি জয় পেলেই শেষ চার নিশ্চিত টিম ইন্ডিয়ার।
অন্যদিকে সাত ম্যাচের তিনটিতে হার ও চারটিতে জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে ইংল্যান্ড। শনিবার আফগানিস্তানকে হারিয়ে ৮ ম্যাচ থেকে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ভারত ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচের একটিতে যদি ইংল্যান্ড হেরে যায় এবং শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে পাকিস্তান হারাতে পারে তবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়বে ইংল্যান্ড।
অন্য হিসাবও আছে। ইংল্যান্ড-ভারত ম্যাচে চোখ রাখবে বাংলাদেশও। ইংল্যান্ড এই ম্যাচের পরে খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যাদের সেমি ঝুলে আছে। ইংলিশ-কিউই ওই ম্যাচটি দুদলের জন্যই হবে মহাগুরুত্বপূর্ণ। তার আগে ভারতের কাছে বা পরে নিউজিল্যান্ডের কাছে ইংল্যান্ড হারলে, আবার বাংলাদেশ পারের দু-ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলে, সেমিতে চলে যাবে টাইগাররা। ছিটকে যাবে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের পিছিয়ে থাকা দল। ঝুঁকিটা মরগানদের জন্যই বেশি।
তাই বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং কাগজে-কলমে হিসাবে থাকা শ্রীলঙ্কা, ভারতের পাশাপাশি উপমহাদেশের এই তিনটি দেশও ইংল্যান্ডের হার চাইবে। এজবাস্টনে ভারত জিতলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার সেমিফাইনালের স্বপ্ন উজ্জ্বল হবে।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সেমিফাইনাল যদিও অনেক যদি-কিন্তুর উপর নির্ভর করছে। আবার ইংল্যান্ড যদি ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পায়, তবে কোনো সমীকরণ ছাড়াই শেষ চারে যাবে স্বাগতিকরা।
শনিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারের জয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। সরফরাজদের জয় ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডকে চাপের মুখে রাখবে। ফলে হট-ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপ শুরু করা ইংল্যান্ড চাপ মোকাবেলা করে নিজেদের ঠিকমতো মেলে ধরতে পারে কিনা সেটিই দেখার।
ইতিহাস অবশ্য ইংল্যান্ডকে চোখ রাঙানিই দিচ্ছে। ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর থেকে একবারও সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি ইংলিশরা। অন্যদিকে ৯২ সালের পর একবারও বিশ্বকাপে ভারতকে হারাতে পারেনি তারা। ইতিহাসের চোখ রাঙানি নিয়েই মাঠে নামবেন মরগানরা।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারত বেশ এগিয়ে। ৯৯ বারের সাক্ষাতে ভারতের ৫৩ জয়ের বিপরীতে ইংল্যান্ড জিতেছে ৪১ ম্যাচে। তিনটি ম্যাচ পরিত্যক্ত ও দুটি ম্যাচ টাই হয়েছে।
বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে অবশ্য সমতা। সাতবারের সাক্ষাতে ভারত ও ইংল্যান্ড তিনটি করে জয় পেয়েছে। ১৯৭৫, ১৯৮৭ ও ১৯৯২ বিশ্বকাপে জয় পায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ১৯৮৩, ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডকে হারায় ভারত। ২০১১ বিশ্বকাপের ম্যাচটি রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ‘টাই’ হয়েছে।
চোখ থাকবে যাদের উপর
বিরাট কোহলি: চলতি বিশ্বকাপে রানের মধ্যেই আছেন বিরাট কোহলি। তবে এখনো পর্যন্ত সেঞ্চুরির দেখা পাননি ভারত অধিনায়ক। বর্তমানে যে ফর্মে আছেন, তাতে ইংল্যান্ডের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন কোহলি।
জস বাটলার: অনায়াসে বিগ শট খেলতে পারেন জস বাটলার। হাই-স্কোরিং কিংবা লো-স্কোরিং ম্যাচ, যেটাই হোক না কেনো হার্ডহিটার ব্যাটসম্যানরাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে বাটলারের জুড়ি মেলা ভার। ভারতের শক্তিশালী বোলিং অ্যাটাককে মুহূর্তেই এলোমেলো করে দিতে পারেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।
টিম নিউজ
ইনজুরি কাটিয়ে জেসন রয় অনুশীলনে ফিরলেও এখনো শতভাগ ফিট হয়ে ওঠেননি। তবে ভারতের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রয়কে নিয়ে ঝুঁকি নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইংলিশ দলনায়ক ইয়ন মরগান। জেসনকে জায়গা দিতে বেঞ্চে থাকতে হবে জেমস ভিন্সকে।
ভারত অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনাই বেশি। তবে নকআউটের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পারে টিম ইন্ডিয়া। সেক্ষেত্রে রবীন্দ্র জাদেজাকে একাদশে নামাতে পারে দুবারের চ্যাম্পিয়নরা।
ফ্যাক্ট: মাঠে খেলবে ইংল্যান্ড ও ভারত। প্রার্থনায় থাকবেন ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সমর্থকরা। এজবাস্টনে ব্যাটে-বলে যারা নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে পারে জয় হবে তাদেরই।
সম্ভাব্য একাদশ
ইংল্যান্ড: জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট, ইয়ন মরগান, বেন স্টোকস, জস বাটলার, মঈন আলি, ক্রিস ওকস, আদিল রশিদ, জফরা আর্চার ও মার্ক উড।
ভারত: রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, বিজয় শঙ্কর, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, কুলদীপ যাদব, মোহাম্মদ সামি, যুজবেন্দ্র চাহাল ও জাসপ্রিত বুমরাহ।








