গত মাসেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পদ হারিয়েছিলেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী কালিখো পুল। আর আজ মঙ্গলবার তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয় তার বাড়ি থেকেই।
অরুণাচলের রাজধানী ইটানগরে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনেই থাকছিলেন কালিখো। যদিও তা কিছুদিনের মধ্যে ছেড়ে দিতে হতো তাকে। সেখানেই মঙ্গলবার সকালে ৪৭ বছর বয়সী কালিখো পুলের মরদেহ পাওয়া যায়।
প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা করেছেন বলেই মনে করছে পুলিশ। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, পুলিশের ধারণা মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তার মৃত্যু হয়েছে।
রাজ্যের সীমান্ত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে কালিখো পুল অরুণাচল বিধানসভায় প্রথমবার নির্বাচিত হন ১৯৯৫ সালে। সে বছরই কংগ্রেসের মুকুট মিথি সরকারে অর্থ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয় তাকে। ২০০৩ সালে গেগং আপাং মন্ত্রিসভায় তিনি অর্থমন্ত্রীর পূর্ণ দায়িত্ব পান। আট বছর কংগ্রেসের অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান তিনি।
২০১৫ সালে কংগ্রেস এবং দলের মুখ্যমন্ত্রী নবম টুকির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন কালিখো। সরকার ভেঙে দিয়ে অরুণাচলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে কেন্দ্র। তারপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিজেপির সমর্থন নিয়ে অরুণাচলের অষ্টম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এই বিদ্রোহী কংগ্রেস নেতা। কিন্তু সে ক্ষমতা বেশি দিন থাকেনি।
কালিখোর মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে জুলাই মাসে আবারও নবম টুকিকে গদি ফিরিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে টুকিও শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেননি। কালিখোসহ অনেক বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়ক টুকিকে সমর্থন সম্ভব নয় বলে হাইকম্যান্ডকে জানিয়ে দেন। আস্থা ভোট হলে টুকির পরাজয় নিশ্চিত জেনে টুকিকে সরিয়ে পেমা খান্ডুকে দলের পরিষদীয় নেতা করা হয়। কালিখো পুলরা তখন পেমা খান্ডুকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে মেনে নেন।
কিন্তু এর পর থেকে কালিখো পুল অবসাদ আর হতাশায় ভুগতে শুরু করেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়। সেই থেকেই এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি তাদের।








