অবশেষে ভারতের লোকসভায় পাস হলো তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রতিরোধ বিল। এর ফলে ভারতে তিন তালাক দিলে তা ফৌজদারি অপরাধ বলে গন্য করা হবে। আর যিনি এভাবে তালাক দেবেন তার বিরুদ্ধে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানাও করা হবে। তবে ভারতের মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এই বিলকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছে।
দীর্ঘদিন ধরেই তিন তালাক নিয়ে উত্তাল ছিল ভারতের জাতীয় রাজনীতি। বিলটির পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও কিছু কট্টরপন্থী সংগঠন। ভারতে মুসলিম নারী আইনে তাৎক্ষণিক তিন তালাক দেয়ার বিধান ছিল। সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এভাবে বিচ্ছেদকে অবৈধ ঘোষণা করে।
বৃহস্পতিবার লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশনে এই বিল উত্থাপন করেন দেশটির কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। পরে কোনরকম সংশোধনী ছাড়াই কন্ঠ ভোটে পাস হয় বিলটি। বিলটি পাসের পর এটিকে ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে, তিন তালাককে অসাংবিধানিক বলেছেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী। সোমবার বা মঙ্গলবার বিলটি রাজ্যসভায় পাঠানো হবে। রাজ্যসভায় পাস হলে বিলটি পাঠানো হবে রাষ্ট্রপতির কাছে। তিনি সই করলেই এটি আইনে পরিণত হবে।
বিলটি শুধু তাৎক্ষণিক তিন তালাকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এ আইনে মৌখিক, লিখিত বা ইলেকট্রনিক পদ্বতিতে তিন তালাক দেয়া বেআইনি বা অচল বলে গণ্য হবে। বিলটিকে স্বাগত জানিয়েছেন মুসলিম নারীরা।
পাস হওয়া বিলটিতে শর্তসাপেক্ষে কংগ্রেস সমর্থন জানালেও বিরোধিতা করেছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল, অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তিহাদুল মুসলিমীন, বিজু জনতা দল, মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড ও কলকাতা প্রগতি মুসলিম সমাজ। তাৎক্ষণিক তিন তালাক বন্ধে সরকারের আইন করার পেছনে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
চলতি বছরের আগস্টে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে আখ্যায়িত করে এবং কেন্দ্রকে ছয় মাসের মধ্যে আইন তৈরি করার কথা বলে।







